ফরিদপুরে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দুর্ঘটনা: মা-ছেলেসহ ছয়জন নিহত, আহত নয়জন
ফরিদপুরে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ছেলেসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল তিনটার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুটি স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দুই দুর্ঘটনায় আরও নয়জন আহত হয়েছেন; তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে মহাসড়কের কানাইপুর তেঁতুলতলা এলাকায়। বালু বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে পড়ে একটি অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেট কারের ওপর। এতে অটোরিকশার যাত্রী এক মা ও তার ছেলে নিহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, একটি অটোরিকশা কানাইপুর থেকে ফরিদপুর শহরে যাওয়ার পথে তেঁতুলতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালু বোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে পড়ে। এ সময় একটি প্রাইভেটকারও ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত দুই যানবাহনের হতাহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অটোরিকশা যাত্রী মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মা সুমি বেগম (৩২); তার ছেলে শাওন (৭)। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের পলাশ মিয়ার পরিবারের সদস্য। অটোরিকশার চালকও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, তবে তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারের এক যাত্রী বালুর ট্রাকের নিচে আটকা পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এই দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারের চার যাত্রী আহত হন, আর অটোরিকশায় থাকা পাঁচজনের মধ্যে দুজন নিহত হন।
দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলে।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শ্রীবাস বাড়ৈ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারের পাশাপাশি একটি অটোরিকশাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আরও তিনজন আহত আছেন, তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এর কিছুক্ষণ পরই দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি এলাকায়, একই ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে। সেখানে যাত্রীবাহী বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিন শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।
জানা যায়, সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী ‘কিং ফিসার’ নামের যাত্রীবাহী বাসটি আড়কান্দি এলাকায় পৌঁছালে ফরিদপুর থেকে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্সটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিনজন নিহত হন এবং আরও চারজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামিম রেজা জানান, মাগুরা জেলা থেকে সকালে সাত শিক্ষার্থী ফরিদপুরে একটি কর্মশালায় যোগ দিতে আসেন। কর্মশালা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
একই মহাসড়কে একই দিনে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বালু বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং বাস-অ্যাম্বুলেন্স মুখোমুখি সংঘর্ষ—দুটি ঘটনারই তদন্তে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা চলছে, এবং নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।




