ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে রেলিং ভেঙে খাদে বাস: নিহত ৩, আহত ১৬, গভীর রাতে উদ্ধার অভিযান
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। গভীর রাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন পেরিয়ে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ১৮ মিনিটের দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাতের এই সময়ে বাসটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি চুয়াডাঙ্গার রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। বাকি দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের এই বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার মূল মুহূর্তটি ছিল ওভারটেকের চেষ্টা — বেপরোয়া গতিতে কাভার্ড ভ্যানটিকে পাশ কাটাতে গিয়েই চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পানিভর্তি খাদে পড়ে যাওয়া বাস থেকে যাত্রীদের বের করে আনাই ছিল উদ্ধারকারীদের প্রধান কাজ।
উদ্ধারকারীরা ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। এছাড়া ঘটনাস্থলেই ৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত ১৬ জন হলেন হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) ও বোরহান উদ্দিন (৫৫)।
আহতদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, ঢাকা ও মাগুরার বিভিন্ন এলাকায় — অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের নিয়েই বাসটি রওনা হয়েছিল। আহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুই নিহতের পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি এখন সামনে রয়েছে, আর আহতদের চিকিৎসা চলছে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
দেশের অন্যতম আধুনিক ও ব্যস্ত এই এক্সপ্রেসওয়েতে গভীর রাতে বেপরোয়া গতির এই দুর্ঘটনা আবারও দূরপাল্লার বাস চলাচলে গতিনিয়ন্ত্রণ ও চালকদের সতর্কতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক বর্ণনায় ওভারটেকের সময় বেপরোয়া গতিকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, উদ্ধারকাজ শেষে মরদেহগুলো হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং আহত ১৬ জনের মধ্যে ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও ৫ জন ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন। পরিচয় না পাওয়া দুই নিহতের স্বজনদের খোঁজ এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানই এখন পরবর্তী ধাপ।





