যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ৩, হাসপাতালে লড়ছেন আরও ২ জন
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতের এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের নতুনহাট মোড় পার হয়ে বড় মেঘলা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। গভীর রাতে মহাসড়কের ওই অংশে দুই দিক থেকে আসা দুটি মোটরসাইকেল মুখোমুখি ধাক্কা খায়।
নিহতদের মধ্যে একজন যশোর সদর উপজেলার মণ্ডলগাতী এলাকার শামিম হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন। অপর একজনের কাছ থেকে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর নাম আরিফুল ইসলাম জয়, বাবার নাম শহিদুল ইসলাম এবং ঠিকানা যশোর পৌরসভার শংকরপুর এলাকার বেজপাড়ার পিয়ারী মোহন রোড বলে উল্লেখ রয়েছে। তৃতীয় নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
আহতরা হলেন মণ্ডলগাতী এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে ওমর ফারুক এবং রুহুল আমিনের ছেলে রাকিব হাসান রিফাত। দুজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে, তবে দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে সিয়াম হোসেন, ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাত একই মোটরসাইকেলে মণ্ডলগাতী এলাকা থেকে বেনাপোলের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁদের মোটরসাইকেলটি নতুনহাট মোড় পার হয়ে বড় মেঘলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে যশোরের দিকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। নিহত সিয়াম হোসেন বেনাপোলগামী মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন। অপর দুই নিহত ব্যক্তি যশোরগামী মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
একই মোটরসাইকেলে তিনজন করে আরোহী থাকা এবং গভীর রাতে মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষ—এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচলের ঝুঁকি ও সতর্কতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পুলিশের প্রাথমিক তথ্যের বাইরে এখনো কিছু জানা যায়নি।
যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন জানান, নিহতদের একজনের কাছ থেকে আরিফুল ইসলাম জয় নামে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর বাবার নাম শহিদুল ইসলাম। কার্ডে ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে—পিয়ারী মোহন রোড, বেজপাড়া, শংকরপুর, যশোর পৌরসভা, যশোর সদর, যশোর।
ওসি আরও জানান, ওই নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টাও চলছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
আহত ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাতের চিকিৎসা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চলমান রয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখছেন চিকিৎসকরা, আর স্বজনদের অপেক্ষা এখন হাসপাতালের করিডোরে।
নিহত তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানই এখন পুলিশের সামনে প্রধান কাজ। পরিচয় মিললে তাঁর পরিবারকেও খবরটি পৌঁছে দেওয়া হবে, আর তদন্তে বেরিয়ে আসবে গভীর রাতের এই মর্মান্তিক সংঘর্ষের পুরো চিত্র।




