সরাসরি ইন্টারনেট ছাড়াই প্রশিক্ষণ পাবে ওপেনএআইয়ের শক্তিশালী মডেল, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তিশালী মডেল প্রশিক্ষণের সময় সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহারের পথ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির নতুন নীতিতে মডেলগুলো লাইভ ইন্টারনেটে ঢুকতে পারবে না; তার বদলে কাজ করবে আগে থেকে সংরক্ষিত ও সূচিবদ্ধ ওয়েব কনটেন্ট আর কৃত্রিমভাবে তৈরি ইন্টারনেট পরিবেশ নিয়ে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার এই নতুন নীতির কথা জানায় ওপেনএআই। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছিল আরেক এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক; তারা তাদের নতুন ও অধিক সক্ষম কয়েকটি মডেলের সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, বর্তমান এআই নিরাপত্তা গবেষণা ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা এবং ইন্টারনেট অবকাঠামোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় শক্তিশালী মডেলকে প্রশিক্ষণের সময় ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখাই দায়িত্বশীল পদ্ধতি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, শক্তিশালী মডেলকে সরাসরি ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ দিলে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট ঘটনাও রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের একটি শক্তিশালী এআই মডেল সিস্টেমের কনফিগারেশনে থাকা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা ও পরীক্ষা চালানোর জন্য ওই মাসের বাকি সময় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত রাখে প্রতিষ্ঠানটি।
মডেলকে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন পরিবেশে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি হঠাৎ করেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষকেরা এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়নকে কঠিন ও ব্যয়বহুল বলে উল্লেখ করেছিলেন।
ওপেনএআইয়ের এক নিরাপত্তা প্রকৌশলীও এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ও সেবার প্রয়োজন হয়। হাজারো গবেষক এসব পরিবেশ তৈরি, পরিবর্তন ও পরীক্ষা করেন। ফলে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন পরিবেশে মডেলকে রাখলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না।
নতুন ব্যবস্থায় ওপেনএআই বিপুল পরিমাণ সূচিবদ্ধ ও সংরক্ষিত ওয়েব কনটেন্ট তৈরি করেছে, যাতে মডেলগুলো সরাসরি ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ না পেয়েও সেগুলোর সঙ্গে কাজ করে প্রশিক্ষণ নিতে পারে। তবে এর মাধ্যমে বাইরের কোনো ব্যবস্থা বা সিস্টেমে সরাসরি প্রভাব ফেলার সুযোগ থাকবে না।
পাশাপাশি এআই মডেলগুলো নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে কী ধরনের দুর্বলতা তৈরি হতে পারে, তা যাচাই করতেও বিভিন্ন পরীক্ষা চালিয়েছে ওপেনএআই। অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন পরিবেশ শুধু তৈরি করেই থেমে থাকেনি প্রতিষ্ঠানটি, সেই পরিবেশ ভাঙার চেষ্টা করে নিজেরাই তা পরখ করেছে।
তবে একটি বড় প্রশ্ন এখনো খোলা রয়েছে। সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ না দিয়ে সংরক্ষিত কনটেন্টের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিলে মডেলগুলো একই মানের সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। লাইভ ইন্টারনেটের বৈচিত্র্য আর সংরক্ষিত সংগ্রহের মধ্যে ব্যবধান থাকলে তার প্রভাব মডেলের দক্ষতায় পড়তে পারে।
ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক—পরপর দুটি বড় প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ থেকে বোঝা যাচ্ছে, অধিক সক্ষম এআই মডেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশিক্ষণ পরিবেশের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দিকে যাচ্ছে।
মডেল যত শক্তিশালী হচ্ছে, তার অনিয়ন্ত্রিত আচরণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও তত বাড়ছে। ফলে প্রশিক্ষণের ধাপেই ইন্টারনেটের দরজা বন্ধ রাখার এই কৌশল আগামী দিনে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও আদর্শ চর্চা হয়ে উঠতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, বিচ্ছিন্ন পরিবেশে প্রশিক্ষিত পরবর্তী প্রজন্মের মডেলগুলো সক্ষমতার দিক থেকে আগের মডেলগুলোর সঙ্গে কতটা তাল মেলাতে পারে এবং এই নিরাপত্তা কাঠামো কত দিন টেকসই থাকে।






