কাশিমপুরে কার্টন কারখানায় আগুন: দুই ইউনিটে শুরু, পরে আট ইউনিটের লড়াই, হতাহতের খবর নেই
গাজীপুরের কাশিমপুরে একটি কার্টন কারখানায় আগুন লেগেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাশিমপুর থানাধীন শৈলান এলাকায় অবস্থিত সুপ্রিম গার্মেন্টসের ওই কার্টন কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট আটটি ইউনিট কাজ করেছে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে সবার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাশিমপুর মিনি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দল। কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, প্রথমে দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে বিভিন্ন স্টেশন থেকে আরও ছয়টি ইউনিট এসে সেই লড়াইয়ে যোগ দেয়।
কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে খালি কার্টন মজুত ছিল। সেই কার্টনের স্তূপই আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে এবং তীব্র হতে সাহায্য করেছে। ফলে শুরুতে দুটি ইউনিট দিয়ে চেষ্টা করলেও আগুন আয়ত্তে আনা যায়নি, বাড়তি ইউনিট ডাকতে হয়েছে।
কার্টন ও কাগজের মতো দাহ্য উপকরণে ঠাসা একটি কারখানায় আগুন লাগলে তা মুহূর্তের মধ্যে বড় আকার নিতে পারে — কাশিমপুরের ঘটনায় ঠিক সেই চিত্রই দেখা গেছে বলে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক বিবরণে উঠে এসেছে। মজুত খালি কার্টনের কারণে আগুনের তীব্রতা বেড়েছে বলে কর্মকর্তা নিজেই জানিয়েছেন।
স্বস্তির বিষয় হলো, এত বড় আগুন সত্ত্বেও ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষ বা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কোনো শ্রমিক আহত বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্যও জানানো হয়নি।
তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পরই সূত্রপাতের কারণ খতিয়ে দেখা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজীপুর দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প এলাকা; পোশাক খাতকে ঘিরে এখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কারখানা ও সহায়ক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে কার্টনের মতো প্যাকেজিং কারখানাও রয়েছে। এমন একটি শিল্পঘন এলাকায় কারখানায় আগুনের ঘটনা এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়, যদিও এবারের ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেনি।
আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কারখানা এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট একযোগে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়, যাতে আগুন পাশের কোনো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। কারখানার ভেতরে থাকা মজুত কার্টন ও যন্ত্রপাতির কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা আগুন নেভার পর মূল্যায়ন করা যাবে।
এখন সবার নজর দুটি বিষয়ের দিকে — আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, এবং সূত্রপাতের কারণ কী ছিল। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত শেষে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অসাবধানতা নাকি অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছিল, তা পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




