সিলেটে এক দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ৭ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৪৯
সিলেটে ডেঙ্গুর সংক্রমণ থামছে না। এক দিনে নতুন করে আরও সাতজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, আর বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪৯ জন রোগী।
নতুন আক্রান্তদের যোগ হওয়ায় সিলেটের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। ভর্তি থাকা ৪৯ জন রোগীর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে।
ডেঙ্গু মূলত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে চারপাশে জমে থাকা পানিতে এই মশার বংশবিস্তার বাড়ে, ফলে এ সময়ে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বারবার মনে করিয়ে দেন, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের জমা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হতে পারে। এসব জায়গায় পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরে ব্যথা কিংবা গায়ে লালচে দানা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টিকে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়।
শিশু, বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। তাই এ ধরনের রোগীদের উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সিলেটে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই ওঠানামা করছে। এক দিনে সাতজন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার অর্থ হলো সংক্রমণের ধারা এখনো থামেনি এবং সতর্কতা শিথিল করার সুযোগ নেই।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অনেকেরই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হয়, কারণ ডেঙ্গুতে রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়া ও শরীরে তরলের ঘাটতির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
নগর এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সতর্কতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ — দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার, শরীর ঢাকা পোশাক পরা এবং মশা তাড়ানোর উপায় কাজে লাগানোর কথা বলা হচ্ছে।
সিলেটের বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান, জ্বর হলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ডেঙ্গুর চিকিৎসা অনেক সহজ হয়।
আগামী দিনগুলোতে সিলেটে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করলেই বোঝা যাবে সংক্রমণের গতি সত্যিই শ্লথ হচ্ছে কি না।



