খুলনার ডুমুরিয়ায় তিন মণ ঘোড়ার মাংসসহ আটক এক ব্যক্তি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের কারাদণ্ড
খুলনার ডুমুরিয়ায় তিনটি জবাই করা ঘোড়ার প্রায় তিন মণ মাংসসহ আনিসুর রহমান ওরফে পলাশ মাহমুদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। অভিযানে একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কাঞ্চনপুর পোড়াবাড়ি এলাকার সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল ফার্মে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। অভিযানটি চালায় এসআরবি-৬। অভিযানের সময় পলাশের সহযোগীরা পালিয়ে যান বলে জানানো হয়েছে।
এসআরবি-৬ অধীনস্থ সিপিসি-১ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) জায়েন উদ্দীন মোহাম্মদ জিহাদ বলেন, চক্রটি ঘোড়া জবাই করে গরু বা খাসির মাংস হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ও হোটেলে বিক্রি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ ক্রেতারা গরু বা খাসির মাংস ভেবে কিনলেও তাঁদের কাছে পৌঁছাত ঘোড়ার মাংস।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ অন্তত ১৬টি ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির কথা স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়েছে। একটি বা দুটি ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে এই কাজ চলছিল বলেই প্রাথমিক তথ্যে ইঙ্গিত মিলেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৯-এর ১৬(ক) ধারায় আদালত পলাশকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল কবির বলেন, জব্দ করা ঘোড়ার মাংস অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করা হয়েছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই ও সংরক্ষণের কারণে এমন মাংস খাদ্য হিসেবে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলেও উদ্বেগের জায়গা থেকে যায়।
পরে জব্দ করা মাংস মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়, যাতে তা কোনোভাবেই আবার বাজারে বা মানুষের খাবারে পৌঁছাতে না পারে। উদ্ধার করা জীবিত ঘোড়াটি স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনছুর আলী শেখের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। হোটেল ও বিভিন্ন স্থানে মাংস বিক্রির অভিযোগ থাকায় কোন কোন জায়গায় এই মাংস গেছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে। পলাশের পালিয়ে যাওয়া সহযোগীদের খোঁজও এই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঘোড়ার মাংস গরু বা খাসি হিসেবে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণাও। সে কারণেই এমন চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠতে পারে স্থানীয় পর্যায়ে।
আপাতত দণ্ডিত পলাশ কারাদণ্ড ভোগ করবেন। পলাতক সহযোগীদের আটক করা গেলে চক্রটির পুরো কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।





