তিন মাসে রেমিট্যান্স ৮৫৯ কোটি ডলার: অর্ধেকের বেশি গেল ঢাকায়, সবচেয়ে কম রংপুরে
দেশে আসা প্রবাসী আয়ের অর্ধেকেরও বেশি যাচ্ছে ঢাকা বিভাগে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) দেশে আসা ৮৫৯ কোটি ২৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্সের মধ্যে ঢাকা বিভাগ পেয়েছে ৪৪৮ কোটি ৪২ লাখ ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের ৫২ দশমিক ২০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
বিপরীতে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে রংপুর বিভাগে—মাত্র ৯ কোটি ৮ লাখ ডলার। একই দেশের ভেতরে বিভাগভেদে এই বিশাল ব্যবধান প্রবাসী আয়ের ভৌগোলিক বণ্টন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকার পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম; এই বিভাগে তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২২৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিলেট বিভাগ পেয়েছে ৭৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে এসেছে ৩৬ কোটি ১৯ লাখ, রাজশাহীতে ২৯ কোটি ৪ লাখ, বরিশালে ১৬ কোটি ৩৩ লাখ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
একক জেলা হিসাবেও প্রবাসী আয় পাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে এই জেলায় এসেছে ৩১৩ কোটি ১৯ লাখ ডলার, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা, যেখানে এসেছে ৫৯ কোটি ৮১ লাখ ডলার। কুমিল্লায় ৫৪ কোটি ৮৪ লাখ, সিলেটে ৪২ কোটি ৬৯ লাখ, নোয়াখালীতে ২৬ কোটি ৬৩ লাখ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৩ কোটি ৪৩ লাখ এবং ফেনীতে ২১ কোটি ২৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও রাঙামাটি জেলায়। তিন মাসে পঞ্চগড়ে এসেছে ৪১ লাখ, লালমনিরহাটে ৪৯ লাখ এবং রাঙামাটিতে ৫০ লাখ ডলার। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে ৭৯ লাখ, খাগড়াছড়িতে ৮৪ লাখ এবং শেরপুরে ১ কোটি ৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, জেলাভিত্তিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ নির্ভর করে প্রবাসীদের বসবাস, তাঁদের পরিবারের অবস্থান এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপর।
তিনি আরও বলেন, অনেক জেলার প্রবাসীদের পরিবারের সদস্য ঢাকায় থাকেন এবং ঢাকার ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেন; ফলে ঢাকায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেশি দেখা যায়। তাই কোনো জেলায় রেমিট্যান্স বেশি এলেই সেখানকার বেশি মানুষ বিদেশে কাজ করেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিদেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা, তাঁদের আয় এবং দেশে অর্থ পাঠানোর গন্তব্যের কারণে বিভাগ ও জেলাভেদে রেমিট্যান্সের পরিমাণে বড় পার্থক্য দেখা যায়।
ঢাকায় জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যাংকিং কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত হওয়ায় এখানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেশি। তবে সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীর মতো জেলাগুলোতেও রেমিট্যান্সের উল্লেখযোগ্য প্রবাহ রয়েছে।
প্রতিবেদনের এই চিত্র দেখায়, প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলেও তার সুফল ভৌগোলিকভাবে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে না; ব্যাংকিং সুবিধা ও পরিবারের অবস্থানই মূলত নির্ধারণ করছে কোন জেলার হিসাবে কত টাকা জমা হচ্ছে।
আগামী প্রান্তিকগুলোতে এই ব্যবধান কমে কিনা এবং পিছিয়ে থাকা বিভাগগুলোতে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ে কিনা, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।



