আরেক দিনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েন, আট শহরে কর্মসূচি
ইতালির আর্থিক রাজধানী মিলানে আরেক দিনের অস্থিরতার আশঙ্কায় শত শত সেনা মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার। শনিবার দেশটির আটটি শহরে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে মিলানের বিক্ষোভ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও লুটপাটে রূপ নেওয়ার পর এই প্রস্তুতি নেওয়া হলো।
নতুন এই বিক্ষোভের ডাক এসেছে অনলাইনে ঘোষণার মধ্য দিয়ে। ‘অক্টোবর ১৭ মুভমেন্ট’ নামে নতুন গঠিত একটি গোষ্ঠী এই আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে ছাত্র ফেডারেশন, তৃণমূলের ট্রেড ইউনিয়ন এবং যুদ্ধবিরোধী জোটগুলো।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বার্তায় গোষ্ঠীটি বলেছে, ‘যারা আমাদের ভবিষ্যৎ অস্বীকার করে, তারাই প্রকৃত সহিংস।’ তারা আরও বলেছে, এই সরকারকে তারা কর্তৃত্ববাদী মনে করে বলেই আস্থা রাখতে পারছে না।
গত সপ্তাহান্তের লুটপাটের ঘটনার পর সরকার একগুচ্ছ নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে ইতালির আর্থিক কেন্দ্র মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে দেশটির কয়েকটি শহরে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, জানিয়েছে ইতালির বার্তা সংস্থা আদনক্রোনোস। শনিবার সকালে উত্তরাঞ্চলীয় লোম্বার্দি অঞ্চলে আরও দেড় শতাধিক তল্লাশি চালানো হয়।
তবে টেলিগ্রাম চ্যানেলে অক্টোবর ১৭ মুভমেন্ট জানিয়েছে, বিক্ষোভে অংশ নিতে চাওয়া অনেকেই শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ভিন্নমত প্রকাশ করতে চান। বৃহস্পতিবার ‘ই’ নামে পরিচয় দেওয়া এক অংশগ্রহণকারী বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে। পুলিশকে অজুহাত দিলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হবে।’
অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন, সহিংসতায় জড়িত আর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আলাদা করে দেখার কিছু নেই। ‘কিউ’ নামে পরিচয় দেওয়া এক সদস্যের ভাষায়, ‘শুধু আমরাই আছি।’ এই অবস্থান থেকে আন্দোলনের ভেতরের ভিন্ন ভিন্ন মনোভাবও স্পষ্ট হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কর্মসূচির স্থান গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার বিকেলে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে তিনটি জমায়েতের স্থান ঘোষণা করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছিল।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, গোষ্ঠীটির ইনস্টাগ্রাম পেজের পরিচালককে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতালির দৈনিক কোরিয়েরে দেল্লা সেরার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ৩০ বছর বয়সী একজন ইতালীয়-মরক্কান ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও গবেষক। ‘অপরাধে উসকানি’র সন্দেহে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
গত রোববারের বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ছিলেন খুবই তরুণ। গ্রেপ্তার ২৭১ জনের মধ্যে ২২০ জনের বয়সই ১৮ বছরের কম। কোরিয়েরে দেল্লা সেরা জানিয়েছে, কেউ কেউ অপ্রত্যাশিতভাবে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হওয়ার পর বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন।
গ্রেপ্তার একজনের ভাষ্য ছিল, ‘তারা বলেছিল বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে আর আমরা অনেক জিনিসপত্র নিতে পারব।’ ২১ ও ১৫ বছর বয়সী দুই বিক্ষোভকারীর পক্ষে লড়ছেন আইনজীবী মিকেলে দাগোস্তিনো। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে কম বয়সী ছেলেটি বিক্ষোভের কারণই জানত না; টিকটকে দেখে বন্ধুর সঙ্গে কৌতূহলবশত গিয়েছিল। তার ভাষ্য, ছেলেটি লুটপাটকারীদের মধ্যে ছিল না, তবে পরিস্থিতির গুরুত্বও সে বুঝতে পারেনি।
পাবলিক প্রসিকিউটর তরুণদের বিভ্রান্ত করে ‘বিদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করেছেন। বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও স্কাই টিজি২৪-কে বলেছেন, ১৮ বছরের কম বয়সীদের গণগ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে কিশোর আটককেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহে জ্বালানির চড়া দামের প্রতিবাদে দক্ষিণ ইতালির কয়েকটি অঞ্চলে সড়ক অবরোধ করেছেন ট্রাকচালকেরা; এতে অনেক বাজারে কয়েক দিন ধরে সরবরাহ বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সরকার করছাড় এবং কৃষক ও জেলেদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের মাধ্যমে তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভ সেই বিস্তৃত অসন্তোষের আবহেই হচ্ছে।





