বাহামার রোদ্দুরের আশায় জাহাজে উঠেছিলেন ৫ হাজারের বেশি যাত্রী, ঝোড়ো আবহাওয়ায় জাহাজ গেল হিমশীতল কানাডায়
রোদঝলমলে বাহামার আশায় প্রমোদতরিতে উঠেছিলেন পাঁচ হাজারের বেশি যাত্রী। কিন্তু ঝোড়ো আবহাওয়ার পূর্বাভাসে যাত্রাপথ বদলে জাহাজটি গিয়ে পৌঁছাল কানাডার হিমশীতল হ্যালিফ্যাক্সে। রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের ‘ওয়েসিস অব দ্য সিজ’ জাহাজের যাত্রীদের এই অভিজ্ঞতা এখন আলোচনার বিষয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর নিউ জার্সি থেকে জাহাজটিতে ওঠেন যাত্রীরা। তাঁদের জন্য ছিল সাত দিনের ভ্রমণ — গন্তব্য ফ্লোরিডা ও বাহামা। কিন্তু পূর্ব উপকূলের ঝোড়ো আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে ক্রুজ লাইন কর্তৃপক্ষ যাত্রাসূচি বদলে জাহাজটিকে উত্তর দিকে, নোভা স্কোশিয়ার হ্যালিফ্যাক্সে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
জাহাজটি হ্যালিফ্যাক্সে প্রায় ২৪ ঘণ্টা থেমেছিল। সেই সময়ে যাত্রীরা তীরে নেমে শহর ঘুরে দেখার, কেনাকাটা করার এবং বন্দরে নৌভ্রমণের সুযোগ পান। বুধবার সন্ধ্যায় জাহাজটি হ্যালিফ্যাক্স ছাড়ে এবং তিন দিন সাগরে কাটিয়ে রোববার নিউ জার্সিতে ফেরার কথা রয়েছে।
সবচেয়ে বড় অসুবিধা হয়েছে প্রস্তুতি নিয়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রা শুরুর আগের সন্ধ্যায় বদলে যাওয়া যাত্রাসূচির কথা জানায় ক্রুজ লাইন। ফলে গ্রীষ্মের পোশাক গুছিয়ে আনা যাত্রীদের হাতে নতুন আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় ছিল খুবই কম।
নিউ জার্সির বাসিন্দা মারি ডার্নিং সিটিভি নিউজকে বলেন, তাঁর স্বামী প্রথমে বলেছিলেন, ‘এটা নিশ্চয়ই রসিকতা, তাই না?’ ডার্নিং জানান, তাঁর কাছে শীতের টুপি ও কানঢাকা ছিল, কিন্তু স্কার্ফ আনতে ভুলে গেছেন — নতুন করে গোছগাছ করতে তাঁকে ছোটাছুটি করতে হয়েছে।
আবহাওয়ার পার্থক্যটা ছিল স্পষ্ট। এ সপ্তাহে হ্যালিফ্যাক্সে দিনের তাপমাত্রা ছিল ৪০-এর ঘরের শেষ দিকে থেকে ৫০-এর ঘরের শুরুতে (ফারেনহাইট), আর রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ৩০-এর ঘরে। বাহামার উষ্ণ সৈকতের বদলে যাত্রীদের মুখোমুখি হতে হলো এই ঠান্ডার।
তবে কেউ কেউ অচেনা শহরটাকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন। নিউ জার্সির প্যাটারসনের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দা জিম ম্যাথিউস বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞ এবং এর সেরাটাই কাজে লাগাব। আর আমি জানতে পেরেছি, হ্যালিফ্যাক্স একটি সুন্দর শহর।’
সবার অভিজ্ঞতা অবশ্য একরকম ছিল না। নিকোলাস মেলি পরিবারসহ টরন্টো থেকে সাত ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে নিউ জার্সিতে এসে জাহাজে উঠেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি তো কানাডা থেকেই এসেছি, আর আমি যেতে চেয়েছিলাম বাহামায়।’
সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রেডিটের কানাডা ফোরামে অনেকে যাত্রীদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন, আবার হ্যালিফ্যাক্সের প্রতি নিজেদের ভালো লাগার কথাও বলেছেন। একজন লিখেছেন, শহরটি তাঁর প্রিয়, তবে বাহামার আশায় গিয়ে সেখানে পৌঁছালে তিনি হতাশ হতেন।
আরেকজন মন্তব্যে পুরো বিষয়টি এক লাইনে বলেছেন — ‘হ্যালিফ্যাক্স চমৎকার, কিন্তু তা বাহামা নয়।’ এই এক লাইনেই যেন ধরা পড়েছে বেশির ভাগ যাত্রীর মনের কথা।
পিপল পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রীরা ৫০ শতাংশ ভ্রমণ ভাউচার পেয়েছেন এবং তীরে ভ্রমণের (শোর এক্সকারশন) জন্য দেওয়া অর্থ ফেরত পেয়েছেন। তবে রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আবহাওয়া বা অন্য পরিস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্দর বদলাতে বা প্রতিস্থাপন করতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে ভাড়া ফেরত বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া সব সময় বাধ্যতামূলক নয়।
হ্যালিফ্যাক্সই ছিল এই ভ্রমণের একমাত্র বন্দর-বিরতি; সেখানে প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাটিয়ে জাহাজটি এখন তিন দিন সাগরে থেকে নিউ জার্সিতে ফেরার পথে রয়েছে।






