নাইজেরিয়ার পূর্বাঞ্চলে গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত, প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি মৃতের সংখ্যা আরও বেশি
নাইজেরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় তারাবা রাজ্যের বিন্নারি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। তবে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া বাসিন্দাদের দাবি, নিহতের সংখ্যা অন্তত ২০, আর মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে মৃতের সংখ্যা ৪০।
পুলিশ শনিবার জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীদের একটি বড় দল বিন্নারি গ্রামে এই হামলা চালায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা দোকানপাট থেকে খাদ্যসামগ্রীও লুট করে নিয়ে গেছে।
কিন্তু অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, মৃতের সংখ্যা ৪০। সংগঠনটি আরও বলেছে, পুলিশ শুরুতে ১০ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করলেও শনিবার আরও মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবারের নামাজের ঠিক পরপরই গুলিবর্ষণ শুরু করে হামলাকারীরা। সেই সময় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিন্নারির বাসিন্দা সাইদু নুহু বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আমরা ২০টির বেশি মরদেহ গুনেছি, আর কিছু মানুষ তখনো নিখোঁজ ছিল।’ আরেক বাসিন্দা ইসিয়াকু মুসাও নিহতের সংখ্যা অন্তত ২০ বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় নেতা মালাম আবুবকর সাইফুল্লাহি এএফপিকে বলেন, হামলাকারীরা প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলে করে আসে, প্রতিটি মোটরসাইকেলে ছিলেন দুজন করে। তারপর তারা গ্রামে তাণ্ডব চালায়।
সাইফুল্লাহি আরও বলেন, ‘তারা দোকান লুট করে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়া মানুষদের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলগুলোও তারা নিয়ে গেছে।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বলেছে, তারা উত্তরের কিছু অংশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বারবার নৃশংসতা চালানো বন্দুকধারীদের দয়ার ওপর ছেড়ে দিচ্ছে, আর এই হামলাকারীরা দায়মুক্তভাবেই এসব ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ‘ব্যান্ডিট’ বা দস্যু গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ক্রমেই বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। দুর্গম গ্রামীণ এলাকাজুড়ে শক্তিশালী এসব গ্যাংয়ের সঙ্গে লড়তে হিমশিম খাচ্ছে প্রসারিত চাপের মধ্যে থাকা পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
পূর্ব-মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য তারাবাও এই ধরনের দস্যু গ্যাংয়ের হুমকির মুখে রয়েছে। এসব দল গ্রামে হামলা চালিয়ে মুক্তিপণের জন্য মানুষকে অপহরণ করে এবং রাজ্যের উপস্থিতি কম থাকা গ্রামীণ এলাকায় কৃষক বা খনি শ্রমিকদের ওপর ‘কর’ আরোপ করে।
এছাড়া নাইজেরিয়া ২০০৯ সালে বোকো হারামের বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে একটি সশস্ত্র সংগ্রামের মোকাবিলা করে আসছে।
পৃথক ঘটনায় শনিবার নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো রাজ্যে বিমান হামলায় ১৫ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। বিন্নারির হামলার ঘটনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা নিয়ে পুলিশ, বাসিন্দা ও মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবের এই ব্যবধান পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরছে।



