আইওয়ার কোয়েকার ওটস কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুন, সব শ্রমিক নিরাপদে সরেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিডার র্যাপিডসে কোয়েকার ওটসের একটি কারখানায় শনিবার আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাত সম্ভবত একটি বিস্ফোরণ থেকে হয়েছে। স্বস্তির খবর হলো, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং সব শ্রমিক নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন।
সিডার র্যাপিডস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার বাসিন্দার এই শহরের কেন্দ্রস্থলের আকাশে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ফেসবুকে দেওয়া তথ্যে জানিয়েছে, আগুনটি সম্ভবত একটি বিস্ফোরণ থেকেই শুরু হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ বা আগুনের ঘটনা ঘটল, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শহরের মেয়র টিফানি ও'ডোনেল ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানিয়েছেন, সব শ্রমিক নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন এবং কারও কোনো ক্ষতি ছাড়াই সবার হিসাব মিলিয়ে দেখা হয়েছে। অর্থাৎ কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েননি।
মেয়র ও'ডোনেল আরও জানান, ভবনের যে অংশে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের কাজ হয়, আগুন সেখানেই লেগেছিল। তাঁর ভাষায়, ওই অংশে কর্মী ও দলীয় সদস্যদের ভিড় খুব বেশি থাকে না—এ ক্ষেত্রে যা ছিল সৌভাগ্যের বিষয়।
ঘটনাস্থলে দমকলকর্মীরা কাজ করেছেন এবং ধোঁয়া শহরের কেন্দ্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে হতাহতের খবর না থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেপসিকো ফুডস ইউএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং আগুন কীভাবে শুরু হলো, তা তদন্ত করে দেখা হবে। কোম্পানির পক্ষ থেকে কারণ সম্পর্কে আগাম কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
কোয়েকার ওটস ব্র্যান্ডটি কোয়েকার মিল কোম্পানির মাধ্যমে ২০২৭ সালে ১৫০ বছরে পা দেবে। ব্র্যান্ডটির মালিক পেপসিকো। দীর্ঘ ইতিহাসের এই খাদ্য ব্র্যান্ডটির কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা তাই স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সিডার র্যাপিডসের এই কোয়েকার ওটস স্থাপনাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিলিং স্থাপনা, যেখানে প্রতিদিন ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি (প্রায় নয় লাখ কিলোগ্রাম) ওট প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এত বড় উৎপাদন কেন্দ্রে আগুন লাগায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে আগুনে কারখানার কতটা ক্ষতি হয়েছে বা উৎপাদন কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সে সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তই এখন মূল বিষয়। বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাতের কথা ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানালেও এর পেছনের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে এলে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।






