ইরানে আজই হামলা হতে পারে, নইলে বড় চুক্তি, বললেন ট্রাম্প
ইরানে আজ, রোববার, নতুন করে আবারও হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শনিবার জানান, রোববার হামলা শুরু হতে পারে। আর নয়তো ইরানের সঙ্গে ‘বড় চুক্তি’ হতে পারে।
ইরানে মার্কিনিরা যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে কয়েকদিন ধরেই। এমন সময় ট্রাম্প জানালেন, রোববারই এই হামলা শুরু হতে পারে, ফলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে ইরানে হামলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল, অর্থাৎ আজ রোববার, হতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
তবে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে রাজি হয়, তাহলে নতুন হামলা থেকে তারা বাঁচতে পারবে বলেও জানান ট্রাম্প। অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে হামলার হুমকির পাশাপাশি চুক্তির দরজাটিও খোলা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা কি চুক্তি মানার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে? এই প্রশ্ন তুলে তিনি চুক্তি নিয়ে নিজের সংশয়ও প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোই তাঁর সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন।
গত বছরের জুনে ইরানে বি-২ বোমারু দিয়ে ইরানিদের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প বলেছেন, যদি এ বছর তিনি আবারও ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত না দিতেন, তাহলে গত বছরের হামলাটি হয়তো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানোর জন্য যথার্থ হতো না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের কাছে আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগের মতো তেল আসছে। তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি, ফলে এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ইরান যদি চুক্তি না করে, তাহলে সামরিকভাবে তাদের এতে বাধ্য করা হবে, এমন মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, আমার কাজটি হয়তো সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়তো তারা হয়তো চুক্তি করবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই।
তিনি আরও বলেন, সামরিক হামলা বা চুক্তি, যেভাবেই হোক, আমরা জিতব। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি দুটি পথের যেকোনো একটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের দাবি তোলেন।
এখন প্রশ্ন হলো, রোববারে আসলে কোন পথটি বাস্তবে রূপ নেয়—নতুন হামলা, নাকি বড় চুক্তির দিকে অগ্রগতি। ট্রাম্পের নিজের কথাতেই দুটি সম্ভাবনাই খোলা রয়েছে, আর সেই অনিশ্চয়তাই পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।






