ঝিনাইদহে নারীর চুল কেটে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতন: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করাতীপাড়া গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক নারীর মাথার চুল কেটে ও শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আন্না খাতুনকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার দুই দিন পর শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আন্না খাতুন সদর উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সদর থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, করাতিপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহের জের ধরে তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালায়। অভিযোগের ভিত্তিতেই পরিবারটি এ হামলা চালায় বলে সূত্র জানিয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে করাতিপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে বসে ছিলেন ওই নারী। এ সময় পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি বাড়িতে গিয়ে ওই নারীকে করাতিপাড়ার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তুলে শাসিয়ে চলে যান।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে প্রবেশ করেন। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা ওই নারীর মাথার চুল কেটে দেন এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেন।
এ সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা দেন। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
পরে বৃহস্পতিবার রাতেই ঝিনাইদহ সদর থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। মামলার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয় পুলিশ।
ভুক্তভোগী ওই নারী শুক্রবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, আনোয়ারের স্ত্রী ব্যাগ থেকে কাঁচি বের করেন, আর অন্যরা তাকে ধরে রাখেন। তখন ওই নারী তার মাথার চুল কেটে দেন। এরপর শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে দিয়ে তারা চলে যান।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম, গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশের টিম আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। একাধিক দল একসঙ্গে মাঠে নামে।
এক পর্যায়ে শনিবার দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি আন্না খাতুন জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া গ্রামে একটি বাড়িতে আত্মগোপনে আছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। প্রধান আসামি ধরা পড়ায় বাকিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে পুলিশের প্রত্যাশা।




