প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি ও ব্ল্যাকমেইল, হানিট্র্যাপ চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৫
রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপ চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান, প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ, অর্থজিৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ, সাবরিন কবির প্রেমা ওরফে নেহা এবং সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি। পুলিশের তথ্যে, জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমানই চক্রটির মূল হোতা।
অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, তিনটি ফাঁকা চেক ও একটি টর্চার বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব আলামত থেকেই চক্রটির কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে বলে পুলিশের ভাষ্য থেকে বোঝা যায়।
শফিকুল ইসলাম জানান, চক্রটির নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। সম্পর্ক গভীর হলে কৌশলে তাদের নির্ধারিত বাসা বা হোটেলকক্ষে ডেকে নেওয়া হতো।
ভুক্তভোগী সেই বাসা বা হোটেলকক্ষে পৌঁছালে চক্রটির পুরুষ সদস্যরা তাকে জিম্মি করে ফেলতেন। সেখানে ভয়ভীতি দেখানো হতো এবং শারীরিক নির্যাতনও করা হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নির্যাতনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আপত্তিকর অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো। পরে সেসব ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করা হতো—এটাই ছিল চক্রটির অর্থ আদায়ের মূল কৌশল।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, একবার অর্থ আদায়ের পরও ব্ল্যাকমেইল থামত না; একই ছবি ও ভিডিওর ভয় দেখিয়ে পুনরায় টাকা দাবি করা হতো। ফলে ভুক্তভোগীরা বারবার অর্থ দিতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে চক্রটির সদস্যরা ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করতেন। পাশাপাশি তারা ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহারের বিষয়টিও গ্রেপ্তারদের তালিকায় স্পষ্ট—প্রায় প্রত্যেকেরই একাধিক নাম বা ওরফে রয়েছে। এই ছদ্মপরিচয়ই ভুক্তভোগীদের পক্ষে চক্রটিকে শনাক্ত করা কঠিন করে তুলত।
ডিএমপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ডিএমপির গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং চক্রটির সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছেন কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।




