কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধে বিশেষ নির্দেশনা, না মানলে বাতিল হবে অধিভুক্তি
কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থী নিপীড়ন ঠেকাতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধিভুক্তি বাতিল করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি এখন পর্যন্ত নেওয়া কঠোরতম অবস্থানগুলোর একটি।
নির্দেশনার মূল লক্ষ্য মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের ওপর সব ধরনের নিপীড়ন ও দুর্ব্যবহার বন্ধ করা। আবাসিক পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে।
সবচেয়ে কঠোর অংশটি হলো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা। নির্দেশনা অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ নিয়ম ভাঙলে প্রতিষ্ঠানটি তার স্বীকৃত মর্যাদাই হারাতে পারে।
অধিভুক্তি একটি মাদ্রাসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ওপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। সেই স্বীকৃতি বাতিলের ঝুঁকি থাকায় নির্দেশনাটি মানতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বড় চাপ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কওমি মাদ্রাসাগুলোতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধায় থেকে পড়াশোনা করে। তাদের অনেকেই কম বয়সী এবং পরিবার থেকে দূরে থাকে। ফলে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখা হয়।
শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যেন ভয় বা নির্যাতনের শিকার না হয়, সেই পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি বারবার উঠেছে। নতুন নির্দেশনা সেই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটেই এসেছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি মাদ্রাসাকে নিজ প্রতিষ্ঠানে নিপীড়নবিরোধী পরিবেশ কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধু কাগজে নিয়ম থাকলেই হবে না; বাস্তবে তা প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ ও তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখার ব্যবস্থা একটি নিরাপদ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম শর্ত। নির্দেশনার পর প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দিকেও নজর দিতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। শিক্ষার্থীর সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলার নামে কোনো ধরনের অতিরিক্ত কঠোরতা বা দুর্ব্যবহার যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে।
এখন দেখার বিষয়, মাঠপর্যায়ে নির্দেশনাটি কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হয়। অধিভুক্তি বাতিলের মতো বড় শাস্তির বিধান প্রয়োগ হলে তা পুরো খাতে শক্ত বার্তা দেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




