মক্কা-মদিনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার হুথিদের, সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার দাবি
ইসলামের পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনায় হামলার খবর অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, ওই দুই অঞ্চলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে এর ধ্বংসাবশেষ পড়েছে।
শনিবার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার দাবি করেছে হুথিরা। অন্যদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে কোস্টগার্ডের একটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।
হুথিরা বলেছে, তাদের সামরিক অভিযান সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। এ ধরনের হামলা চালানো হলে তারা প্রকাশ্যেই ঘোষণা দেয়। সেই অবস্থান থেকেই মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে গোষ্ঠীটি।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, প্রতিহত করা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে পড়েছে। মক্কার কাছাকাছি এলাকা ছাড়াও জেদ্দা, তায়েফ ও রাবিগে ধ্বংসাবশেষ পড়ার খবর পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের একাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। তার দেওয়া লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা।
একই দাবিতে আরও বলা হয়েছে, রাবিগ তেল শোধনাগার, অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাম্পিং স্টেশন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনও লক্ষ্যবস্তু ছিল। এসব স্থাপনা সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নাজরানের একটি বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছেন সারি। অর্থাৎ বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি ও তেল স্থাপনা — তিন ধরনের লক্ষ্যবস্তুর কথা একসঙ্গে বলেছে হুথিরা।
হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইয়ানবু ও তায়েফের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তবে অন্য লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার বিষয়ে হুথিদের দাবির সরাসরি জবাব দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
হামলাগুলোর কোনোটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, নাকি সেগুলোও প্রতিহত করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ শুধু জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে, যার মধ্যে রাবিগের আশপাশের এলাকাও রয়েছে — যেখানে একটি তেল শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে হুথিরা।
শনিবার এর আগে তায়েফ, ইয়ানবু, মক্কা ও জেদ্দার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল সৌদির বেসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর। প্রায় ১০ মিনিট পর সংস্থাটি জানায়, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।
সব মিলিয়ে একই ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে — হুথিরা তেল ও সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করলেও পবিত্র নগরী দুটিকে লক্ষ্য করার কথা অস্বীকার করেছে, আর সৌদি পক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা ও ধ্বংসাবশেষ পড়ার কথা বলেছে। কোনো হামলা লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।






