পদোন্নতির জিও জারির দাবিতে মাউশি প্রাঙ্গণে অবস্থান প্রভাষকদের, আদেশ না এলে কর্মসূচি চলবে
পদোন্নতির সরকারি আদেশ (জিও) জারির দাবিতে রাজধানীতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রভাষকেরা। ৩৬, ৩৭ ও ৩৮তম বিসিএসের এই কর্মকর্তারা বলছেন, জিও জারি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
রোববার সকাল ১০টা থেকে মাউশি প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন প্রভাষকেরা। দিনের শুরু থেকেই দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান নেন তাঁরা; প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিও জারির সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না মিললে মাঠ ছাড়বেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি-বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। বছরের পর বছর একই পদে আটকে থাকায় তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের মূল প্রশ্ন—যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা থাকার পরও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কেন বছরের পর বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে? তাঁদের অভিযোগ, বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা সম্পন্ন হওয়ার পরও সরকারি আদেশ জারি হচ্ছে না। বারবার আবেদন, স্মারকলিপি দেওয়া ও প্রতিবাদ জানানোর পরও পদোন্নতি মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
জানতে চাইলে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী প্রভাষক জাহিদ সোহেল বলেন, “ন্যায্য পদোন্নতি থেকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। আমরা এ বঞ্চনা থেকে মুক্তি চাই।” তাঁর এই বক্তব্যে ফুটে উঠেছে তিন ব্যাচের শত শত কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ।
সরকারি কলেজগুলোতে পাঠদান, পরীক্ষা পরিচালনা ও প্রশাসনিক নানা দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। পদোন্নতি আটকে থাকলে শুধু বেতন-ভাতার প্রশ্নই ওঠে না, কর্মজীবনের স্বাভাবিক অগ্রগতি ও মর্যাদার প্রশ্নটিও জড়িয়ে থাকে। দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পেলে কর্মস্পৃহায় ভাটা পড়ে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রভাষক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির এই জট শিক্ষা ক্যাডারে নতুন নয়। অতীতেও পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনে নামতে হয়েছে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের। এবার তিনটি ব্যাচ একসঙ্গে মাঠে নামায় দাবিটি আরও জোরালো আকার পেয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচির কারণে মাউশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও কর্মকর্তারা বলছেন, দাবি আদায়ের আর কোনো পথ খোলা ছিল না তাঁদের সামনে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও ফাইল আটকে থাকাকে তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে। সময় গড়ালে কর্মসূচি আরও কঠোর হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মাউশি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, ডিপিসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আর বিলম্ব না করে দ্রুত জিও জারি করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটে।
শিক্ষা ক্যাডারের এই অবস্থান কর্মসূচি এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে। জিও জারি হলে কর্মকর্তারা শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন পূর্ণ উদ্যমে; আর বিলম্ব হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।





