কেরানীগঞ্জের সিরাজনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতাধিক বই নিয়ে চালু হলো নতুন পাঠাগার
ঢাকার কেরানীগঞ্জের ৯৩ নম্বর সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষামূলক বই দিয়ে একটি নতুন পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছে কেরানীগঞ্জ বন্ধুসভা। বিদ্যালয়টিতে আগে কোনো পাঠাগার ছিল না, ফলে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার জন্য আলাদা কোনো জায়গা ছিল না। নতুন এই পাঠাগারের মাধ্যমে এখন বিদ্যালয়ের শিশুরা স্কুলেই নানা ধরনের বই পড়ার সুযোগ পাবে।
২৪ অক্টোবর দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠাগারটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন বন্ধুসভার সদস্যরা। প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্যোগটিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিয়া হোসেন বলেছে, তাদের স্কুলে আগে কোনো পাঠাগার ছিল না। এখন তারা অনেক ধরনের বই পড়তে পারবে। সে চায়, তার স্কুলের সব বন্ধুই যেন বই পড়ে। একজন ছোট শিক্ষার্থীর এই প্রত্যাশাই পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে তোলে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেছে, বই পড়লে অনেক কিছু শেখা যায়। আগে স্কুলে বই পড়ার জন্য আলাদা কোনো জায়গা ছিল না; এখন পাঠাগার হওয়ায় তারা স্কুলেই বিভিন্ন বই পড়তে পারবে। সে নিয়মিত বই পড়তে এবং নতুন নতুন বিষয় জানতে চায়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিটন হোসেন বলেছেন, তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো পাঠাগার ছিল না। কেরানীগঞ্জ বন্ধুসভা তাদের একটি পাঠাগার উপহার দিয়েছে, এর জন্য তাঁরা কৃতজ্ঞ। তাঁর মতে, এখান থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষামূলক বই পড়ে অনেক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
বন্ধুসভার সদস্য মোহনা আক্তার জানিয়েছেন, শিশুদের জন্য উপযুক্ত বই বাছাই করেই তাঁরা সংগ্রহ করেছেন। বইগুলো যেন শিশুদের বয়স ও আগ্রহের সঙ্গে মানানসই হয়, সেদিকে তাঁরা বিশেষভাবে খেয়াল রেখেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, বই পড়ে শিশুরা আনন্দ পাবে, নতুন কিছু জানার কৌতূহল তৈরি হবে এবং নিজেরাই আরও বই পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেছেন, ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি হলে শিশুদের চিন্তাভাবনা বিকশিত হয়। সেই ভাবনা থেকেই বাছাই করা বই দিয়ে পাঠাগারটি সাজানো হয়েছে, যাতে পড়াটা শিশুদের কাছে বোঝা নয়, আনন্দের বিষয় হয়ে ওঠে।
কেরানীগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি নাজিউল্লাহ ভূঁইয়া বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন থেকে দূরে রাখতে এবং বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। তাঁরা চান, শিশুরা অবসর সময়ে মোবাইলে আসক্ত না হয়ে বইয়ের জগতে ডুবে থাকুক।
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে যদি শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তাহলে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়মিত পাঠাভ্যাসে পরিণত হবে। সেই লক্ষ্যেই শতাধিক বই দিয়ে পাঠাগারটির যাত্রা শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নাজিউল্লাহ ভূঁইয়া আরও জানিয়েছেন, এখানেই তাঁদের কার্যক্রম শেষ নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিত পাঠচক্রের আয়োজন করা হবে, যাতে তারা বই পড়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করতে পারে এবং পড়ার প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি রেবেকা সুলতানা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সাইফুল, বন্ধু সুমাইয়া আক্তার ও নাসিমা বেগমসহ বন্ধুসভার অন্য সদস্যরা। সবার উপস্থিতিতে পাঠাগারটির সূচনা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবের আবহ তৈরি করে।
পাঠাগার না থাকা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নিয়মিত পাঠচক্র ও নতুন বইয়ের মাধ্যমে পাঠাগারটিকে কতটা প্রাণবন্ত রাখা যায়, যাতে সিরাজনগরের শিশুদের বই পড়ার এই নতুন অভ্যাস দীর্ঘদিন টিকে থাকে।





