রংপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে আধা কিলোমিটার ধাওয়া করে পিটুনি, নিহত দুজন
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে পিটুনিতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার ভোরে উপজেলার উত্তর পানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকার বড় সেচ ক্যানেলের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া দুজন হলেন গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার এজারুল ওরফে কানা রেজাউল (৫০) ও কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন বলেন, গঙ্গাচড়ার বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ি থেকে আজ ভোরে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির লোকজন টের পেয়ে চিৎকার করেন।
তখন মসজিদে ফজরের আজান চলছিল। পরে মসজিদের মাইকেও চুরির কথা প্রচার করা হয়। এতে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে অভিযুক্তদের ধাওয়া করেন।
ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে দুজনকে আটক করে পিটুনি দেন স্থানীয়রা। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সকালে সেচ ক্যানেলের পাশে দুজনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। মরদেহ ঘিরে অনেক মানুষের ভিড় ছিল। সেই দৃশ্য এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করে।
অটোরিকশার মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাড়ির একটি ছোট ঘরে তিনি অটোরিকশাটি রাখতেন। আজ ভোরে ওই ঘরের তালা ভেঙে অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বিষয়টি টের পান।
তিনি আরও বলেন, দুজনের পিছু নিয়ে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। লোকজন জড়ো হয়ে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে দুজনকে ধরে পেটান। তার বর্ণনাতেই ভোরের ধাওয়া ও পিটুনির ধারাবাহিক চিত্র উঠে এসেছে।
চুরির অভিযোগে দুজনকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর।
তিনি বলেন, মরদেহ দুটির সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে বেলা পৌনে একটার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকায় এখন পুলিশের তদন্তেই ঘটনার বিস্তারিত ও জড়িতদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।





