জামালপুরে মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ: ইমাম মুছা মিয়ার যাবজ্জীবন, জরিমানার অর্থ পাবেন ভুক্তভোগী
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়া এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মুছা মিয়া নামের এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মুছা মিয়া গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার হরিচণ্ডী গ্রামের মো. মনিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী মণ্ডলপাড়া এলাকার একটি জামে মসজিদে ইমাম ও শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর সকালে ওই শিক্ষার্থী মসজিদে আরবি পড়তে যায়। এ সময় অন্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে ভুক্তভোগীকে মসজিদে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করান মুছা মিয়া।
একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
পুলিশ ২০২১ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। এরপর দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রোববার এ রায় দেন।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক বলেছেন, ধর্ষণের মামলায় মুছা মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত; জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী পাবেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল প্রায় ছয় বছর আগে, ২০২০ সালে। মামলা দায়ের, তদন্ত প্রতিবেদন ও ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য পেরিয়ে রায় আসতে সময় লেগেছে দীর্ঘ; রোববারের রায়ের মধ্য দিয়ে সেই বিচারপ্রক্রিয়ার একটি অধ্যায় শেষ হলো।
মসজিদে ধর্মীয় শিক্ষা নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার প্রশ্নটি এই মামলায় আবারও সামনে এসেছে। শিক্ষক ও ইমামের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে শিশু ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার পাঁচ লাখ টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়া হবে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের এই রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত মুছা মিয়াকে কারাগারে থাকতে হবে; মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখন সেই অনুযায়ী এগোবে।






