সৌদিতে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের ১–২ শতাংশ নির্যাতনের শিকার: সংসদীয় কমিটিকে জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের ১ থেকে ২ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হন বলে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিকে তথ্য দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটিতে এখন প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার বাংলাদেশি নারী শ্রমিক রয়েছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এটি ছিল কমিটির তৃতীয় বৈঠক।
কমিটির পক্ষ থেকে এই ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সতর্ক করা হয়, শতাংশের হিসাবে সংখ্যাটি কম মনে হলেও সংখ্যার হিসাবে এই ঘটনা অনেক বেশি।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবে নারী শ্রমিক নির্যাতনের দুঃখজনক অনেক ঘটনা ঘটে। পাসপোর্ট নিতে এলে তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়; এ ছাড়া তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও জরিপ করা হয়।
আদিব চৌধুরী বলেন, মন্ত্রণালয় তথ্য তুলে ধরেছে যে সৌদি আরবে ১ থেকে ২ শতাংশ নারী শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হন। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৪ জন নারী গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১ থেকে ২ শতাংশ শুনলে ছোট সংখ্যা বলা হয়, কিন্তু ১ হাজার ৩৬৪—এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কমিটি মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত নারী শ্রমিকদের কাছ থেকে দূতাবাসের হটলাইন নম্বরে কতটি কল এসেছে, কত দ্রুত সাড়া দেওয়া হয়েছে এবং কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে—এসবের পরিসংখ্যান নিয়মিত পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে কমিটি। সেই সঙ্গে ছয় মাস পর অগ্রগতি যাচাইয়ের পাশাপাশি পাসপোর্ট প্রদান ও অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ সেবার মান পরিমাপে নির্দিষ্ট কর্মদক্ষতার সূচক (কেপিআই) নির্ধারণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে, সৌদি আরবে কনস্যুলার সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরবি ভাষায় দক্ষতার অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ভাষাগত দক্ষতা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়। এই সমস্যা সমাধানে কর্মীদের আরবি ভাষার প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়; তবে এর সুফল পেতে সময় লাগতে পারে বলে কমিটিতে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, এস কে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী ও সানজিদা ইসলাম। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।




