ফেনীর ছাগলনাইয়ায় অটোরিকশাচালক আবদুল হককে কুপিয়ে হত্যা, মামলার দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় অটোরিকশাচালক আবদুল হককে (৪৫) হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় আবদুল হককে কুপিয়ে তাঁর অটোরিকশা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন শনিবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আবদুল হক উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের মাটিয়াগোদা গ্রামের ওসমান হাওলাদারের ছেলে। ধারদেনা করে ও কিস্তিতে প্রায় দেড় লাখ টাকা দিয়ে অটোরিকশাটি কিনেছিলেন তিনি। ওই অটোরিকশা চালিয়েই দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের এলাকার বাসিন্দারা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা না হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহামায়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল করিম লিটন।
ফজলুল করিম লিটন বলেন, নিহত আবদুল হক এলাকার নিরীহ ও সৎ মানুষ ছিলেন। তাঁকে যারা হত্যা করেছে, তাদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও বলেন, একজন নিরীহ মানুষ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের প্রশাসন শনাক্ত করতে না পারলে এমন প্রশাসন দিয়ে দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়।
ছাগলনাইয়া থানার ওসি মো. আবু তাহের বলেন, আবদুল হকের স্ত্রী হাসিনা আক্তার বাদী হয়ে এই ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আরও কয়েকজন পুলিশের তালিকায় রয়েছেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।


