আলাস্কার সিনেট মামলা নিয়ে টিভি বিতর্কে উত্তেজনা: সংবিধানের পুরো ধারা দেখাতে বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্লাঞ্চ

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সিএনএনের উপস্থাপক ডানা ব্যাশের সঙ্গে টেলিভিশন বিতর্কে জড়িয়েছেন সংবিধানের নির্বাচন ধারার (ইলেকশনস ক্লজ) শুধু একটি অংশ দেখানো নিয়ে। রোববার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে আলাস্কার সিনেট নির্বাচন নিয়ে বিচার বিভাগের মামলার আলোচনায় এই উত্তপ্ত বিনিময় হয়।
বিতর্কের কেন্দ্রে আলাস্কা সুপ্রিম কোর্টের আগের রায়, যেখানে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সালিভানের প্রায় একই নামের আরেক প্রার্থী ড্যানিয়েল জে. সালিভান জুনিয়রকে ব্যালটে থাকতে দেওয়া হয়েছে।
ব্লাঞ্চ বলেন, ‘সুবিধামতো আপনারা সংবিধান পর্দায় তুললেন, কিন্তু শুধু প্রথম ধারাটি হাইলাইট করলেন। পরের ধারাটি দর্শকদের দেখাচ্ছেন না কেন, যেখানে বলা হয়েছে কংগ্রেস এ বিষয়ে আইন পাস করতে পারে? সেটি আবার পর্দায় তুলুন।’
আলোচ্য বিধানটি সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদের চতুর্থ ধারা। এতে কংগ্রেস নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষমতা রাজ্য আইনসভাগুলোকে দেওয়া হয়েছে, আবার কংগ্রেসকে সেই নিয়ম প্রণয়ন বা পরিবর্তনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
ব্লাঞ্চের যুক্তি, এই বিধানের দ্বিতীয় অংশ বিদ্যমান ফেডারেল আইনের অধীনে সরকারের হস্তক্ষেপকে সমর্থন করে। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় ধারায় বলা হয়েছে কংগ্রেস যেকোনো সময় আইন দিয়ে তা করতে পারে, এবং আমাদের একটি আইন আছে; গত সপ্তাহে মামলা করার সময় আমরা সেই আইনের ওপরই নির্ভর করেছি।’
বিচার বিভাগের মামলাটি ন্যাশনাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের ওপর নির্ভরশীল। বিভাগের যুক্তি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তারা যাকে মনে করে, এমন একজন প্রার্থীকে ব্যালটে থাকতে দিলে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ক্ষুণ্ন হয়। অভিযোগে আদালতের কাছে চাওয়া হয়েছে, ড্যানিয়েল জে. সালিভান জুনিয়রের পক্ষে পড়া ভোট যদি চূড়ান্ত ফল বদলে দিতে পারে, তবে নির্বাচনের সনদ (সার্টিফিকেশন) বিলম্বিত করা হোক।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘ড্যানিয়েল জে. সালিভান ২০২৬ সালে রিপাবলিকান হিসেবে সিনেটর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনেটর সালিভানের সমর্থকদের বিভ্রান্ত করে তাকে ভোট দেওয়ানোর উদ্দেশ্যে।’
জুন মাসে আলাস্কা সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, রাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যালটে থাকতে পারবেন; ব্যালটে তার নাম কীভাবে আসবে, সেই প্রশ্নটি রাজ্যের ডিভিশন অব ইলেকশনসের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পিটার্সবার্গের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। রিপাবলিকানরা তাকে বর্তমান সিনেটরের ভোট কেটে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন; ড্যানিয়েল জে. সালিভান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার প্রার্থিতা বৈধ।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শুক্রবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই বিতর্কে মুখ খোলেন; তিনি স্বীকার করেন, বিচার বিভাগকে আইনি পদক্ষেপ নিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উৎসাহিত করেছিলেন।
ফেডারেল মামলাটির বিরোধিতা করছে ভোটাধিকার গোষ্ঠীগুলো এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলার প্রচারশিবির; দুই পক্ষই মামলায় হস্তক্ষেপের আবেদন করেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের যুক্তি, ন্যাশনাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ভোটার-নিবন্ধন পদ্ধতি নির্ধারণ করে; প্রার্থীর ব্যালট-অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের সনদ আটকানোর অনুমতি এই আইন দেয় না।
মিডিয়া রিসার্চ সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ডেভিড বোজেল ব্যাশের সংবিধান উপস্থাপনার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে একটি বিধানের অর্ধেক দর্শকদের হাতে তুলে দেওয়া একজন উপস্থাপক জাদুর খেলা দেখাচ্ছেন, আর সেই কৌশল সরাসরি টেলিভিশনে ভেঙে পড়েছে।’ তার দাবি, সিএনএনের উচিত পুরো ধারাটি দর্শকদের দেওয়া।


