ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলায় সন্দেহ আপিল আদালতের বিচারকের
যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের মামলা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। মামলাটিতে রাজ্যটিকে এমন মেইল-ইন ব্যালট বাতিল করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেগুলোকে প্রশাসন সম্ভাব্য অনাগরিকদের কাছে যাওয়া ব্যালট বলে মনে করছে।
সার্কিট বিচারক মার্ক বেনেট রবিবার বলেন, বিরল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত শুনানির পর তিন বিচারকের প্যানেল যত দ্রুত সম্ভব সিদ্ধান্ত দেবে।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া বিচারক বেনেট উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মামলাটি যাচাই-বাছাইয়ে টিকবে কি না, তা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের নির্বাচন ধারার দিকে ইঙ্গিত করেন, যা অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের নয়, রাজ্যগুলোর হাতে।
বিচার বিভাগের আইনজীবী ম্যাথু ডোনেলিকে উদ্দেশ করে বেনেট বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে, তাঁরা এমন একটি নিষেধাজ্ঞা চাইছেন, যা নির্বাচন ধারা অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়া আইনসভার গৃহীত আইনের সঙ্গে পুরোপুরি অসঙ্গতিপূর্ণ; আদালত কীভাবে তা করতে পারে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অভিযুক্ত অনাগরিক ভোটের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এই মামলা।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে, ১৫ অক্টোবর বিচার বিভাগ বামঘেঁষা ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে অভিযোগটি দায়ের করে।
মামলায় কেন্দ্রীয় আদালত ব্যবস্থাকে হাজার হাজার মেইল-ইন ব্যালট বাতিল করতে বলা হয়েছে, যেগুলো সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য অনাগরিকদের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
মামলা অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্বের ভিত্তিতে ভোটের অযোগ্য বলে মনে করা ২০ হাজার নামের একটি তালিকা ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে।
ট্রাম্প প্রায়ই এই ভিত্তিহীন দাবি তুলেছেন যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অনাগরিকদের ব্যাপক ভোট থেকে সুবিধা পাচ্ছে, আর ক্যালিফোর্নিয়া দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর নির্বাচনসংক্রান্ত ভুল তথ্যের লক্ষ্য।
এ বছরের শুরুতে রাজ্যটির প্রাইমারি নিয়েও ট্রাম্প নিন্দা করেছিলেন, যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদপ্রার্থী স্পেন্সার প্র্যাটসহ ডানপন্থি প্রার্থীরা তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল করতে পারেননি। তিনি তখন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেমোক্র্যাটরা বড় ধরনের প্রতারণা করছে, এবং পরে ঘোষণা দেন যে রাজ্যটি মার্কিন অ্যাটর্নি কার্যালয়ের তদন্তের আওতায় থাকবে।
সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং তিনি ভীতি ও বিভ্রান্তির মাধ্যমে ভোটার উপস্থিতি কমাতে চাইছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হবে কোন দল মার্কিন কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করবে, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও স্থানীয় পদগুলোর ভাগ্যও।
ভোটাধিকার কর্মীরা সতর্ক করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন অনাগরিক ভোটারদের তালিকা কীভাবে তৈরি করেছে, তা প্রকাশ্যে জানায়নি এবং হুইসেলব্লোয়ারদের প্রতিবেদন এমন তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।
১৫ অক্টোবরের মামলার জবাবে ক্যালিফোর্নিয়া বলেছে, অনাগরিকদের ভোট ঠেকাতে রাজ্যটির শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে এবং বিচার বিভাগের দাবি সন্দেহজনক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এ মাসের শুরুর একটি বিবৃতিতে বলেন, নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ট্রাম্প তাঁর রাজনীতিকরণ করা বিচার বিভাগ ব্যবহার করে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটারদের দমন করার দুঃখজনক ও মরিয়া চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, গোল্ডেন স্টেটে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চালিয়ে যাওয়া হবে।


