মিশিগানে মুসলিম সিনেট প্রার্থী এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ বললেন ট্রাম্প, পাল্টা জবাব প্রার্থীর

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মিশিগানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট আসনের প্রচারণায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে চরমপন্থা ও মুসলিম ব্রাদারহুড সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিশিগানের পোর্ট হিউরনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্প এল-সায়েদকে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ইউনাইটেড ফ্লাইট ৯৩ বিমান ছিনতাইকারীদের সঙ্গে তুলনা করে তাঁকে ‘জিহাদি’ হিসেবে আখ্যা দেন।
পোর্ট হিউরনের সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তিনি এখানে এসেছেন মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন জিহাদি সদস্যকে মার্কিন সিনেটর হওয়া থেকে ঠেকাতে। তিনি আরও দাবি করেন, এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে সিনেটে প্রবেশের আগে তাঁকেই একমাত্র মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই এলাকায় ট্রাম্প ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
এল-সায়েদ জয়ী হলে তিনি হবেন মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম সদস্য।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসে আয়োজিত এক সভায় এল-সায়েদ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এসব অভিযোগকে ‘ভণ্ডামি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। এল-সায়েদ বলেন, তাঁর নামের প্রথম অংশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, অথচ সৌদি ও কাতারিদের একই নাম থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের জামাতার সংস্থায় তাদের বিনিয়োগ বা ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে প্রাইভেট জেট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো আপত্তি দেখা যায় না।
অন্যদিকে এই আসনের রিপাবলিকান প্রার্থী সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি মাইক রজার্স ট্রাম্পের ৯/১১ সংক্রান্ত মন্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো জবাব না দিলেও এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জানান, তিনি এল-সায়েদকে সন্ত্রাসী মনে করেন না। তবে প্রমাণ ছাড়াই তিনি অভিযোগ করেন, এল-সায়েদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা’ ঘেঁষা গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন পাচ্ছেন।
রজার্সের এই অভিযোগকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে নিজের দেশপ্রেম ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার কড়া প্রতিবাদ জানান মিশিগানে জন্ম নেওয়া এল-সায়েদ।
এর আগে শনিবার ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারণায় নেমে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই আক্রমণের নিন্দা জানান। ওবামা বলেন, প্রতিপক্ষরা এল-সায়েদকে অন্যদের তুলনায় ‘কম আমেরিকান’ হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা করছে, যা অতীতে তাঁর ক্ষেত্রেও কেনিয়ায় জন্ম সংক্রান্ত ভুয়া দাবি দিয়ে করা হয়েছিল।
মিশিগানের এই সিনেট আসনটি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৫৩-৪৭ এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮-২১৪, যা বদলাতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র কয়েকটি আসনে জয়ের প্রয়োজন।


