খান ব্রাদার্সের শেয়ার কারসাজি: তিনজনকে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করল বিএসইসি, ৩০ দিনে পরিশোধের নির্দেশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির দায়ে তিন ব্যক্তিকে মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির তদন্ত ও অনুসন্ধান কমিটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় কমিশন তিনজনের বিরুদ্ধে পৃথক এনফোর্সমেন্ট আদেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
জরিমানা পাওয়া তিনজন হলেন বরিশালের গৌরনদীর মো. নাসির উদ্দিন আকন, রাজধানীর মুগদার মো. আজাদ হোসেন পাটোয়ারী এবং একই এলাকার মো. আক্তার হোসেন। আকনকে ১ কোটি টাকা, পাটোয়ারীকে ২ কোটি টাকা এবং আক্তার হোসেনকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একাধিক বিও হিসাব ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে শেয়ারের দাম ও লেনদেনে কৃত্রিম প্রভাব ফেলতেন। নিজেদের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা করে তাঁরা বাজারে ওই সিকিউরিটিজের লেনদেনের একটি সক্রিয় ও বিভ্রান্তিকর চিত্র তৈরি করতেন।
আদেশ অনুযায়ী, প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে শেয়ার কেনাবেচা করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা হতো। সিরিজ ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারের দর অস্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এসব কর্মকাণ্ডে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্সের ১৭(ই)(ii), ১৭(ই)(iii) ও ১৭(ই)(v) ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কমিশনের শুনানিতে অভিযুক্তরা নিজেদের সাধারণ বিনিয়োগকারী দাবি করে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে তাঁদের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় কমিশন তা খারিজ করে দেয় এবং একই অর্ডিন্যান্সের ২২ ধারা অনুযায়ী অর্থদণ্ড আরোপ করে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করায় কমিশন আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
আদেশের বিবরণ অনুযায়ী, মো. আক্তার হোসেন মোট ৬টি বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত খান ব্রাদার্সের ৫৪ হাজার ২৭১টি শেয়ার লেনদেন করেন। এতে তাঁর রিয়েলাইজড ক্যাপিটাল গেইন হয় ৭ কোটি ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৬ টাকা এবং আনরিয়েলাইজড গেইন হয় ৬৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
মো. আজাদ হোসেন পাটোয়ারী ৭টি বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯টি শেয়ার লেনদেন করে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত রিয়েলাইজড গেইন করেন ৮ কোটি ২১ লাখ ৩ হাজার ৩১০ টাকা; তাঁর আনরিয়েলাইজড গেইন ১৩ কোটি ৬৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৬৬ টাকা।
মো. নাসির উদ্দিন আকন ৯টি বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ১৬ লাখ ৪২ হাজার ৩৩১টি শেয়ার লেনদেন করেন ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত। এতে তাঁর রিয়েলাইজড গেইন ৪ কোটি ২২ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৩ টাকা এবং আনরিয়েলাইজড গেইন ১৫ কোটি ৭২ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, প্রত্যেক অভিযুক্তকে আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে কমিশনের অনুকূলে জরিমানার অর্থ জমা দিতে হবে। অন্যথায় সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


