ইউরোপ এখন ‘অন্ধকারের যুগে’ বাস করছে: ব্রুজে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করলেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট স্টাব
একাধিক যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থাকে পদদলিত করায় ইউরোপ এখন একটি ‘অন্ধকারের যুগে’ বাস করছে বলে মন্তব্য করেছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব।
সোমবার বেলজিয়ামের ব্রুজে কলেজ অব ইউরোপে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে স্টাব বলেন, শীতলযুদ্ধ-পরবর্তী যুগ শেষ হয়ে গেছে এবং বিশ্ব এখন ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ও ১৯৮৯ সালে কমিউনিজমের পতনের মতো একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
নিজে ১৯৯০-এর দশকে এই প্রতিষ্ঠানেই পড়াশোনা করা স্টাব শিক্ষার্থীদের বলেন, তিনি নিজে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন ‘আলোর যুগে’, আর তাঁরা শুরু করছেন ‘অন্ধকারের যুগে’। তাঁর ভাষ্য, একসময় বলা যেত মানবজাতির তিন বড় হত্যাকারী—রোগ, দুর্ভিক্ষ ও যুদ্ধ—পরাজিত হয়েছে; এখন আর তা সত্য নয়, আলো সরে গিয়ে অন্ধকার নেমেছে।
স্বভাবগতভাবে আশাবাদী হলেও এখন হতাশ হওয়ার ‘প্রচুর কারণ’ রয়েছে বলে তিনি শিক্ষার্থীদের জানান।
স্টাব বলেন, ভবিষ্যৎ কূটনীতিক, রাজনীতিক ও কর্মকর্তারা স্নাতক হবেন এমন এক ‘হিংস্র প্রতিযোগিতার বিশ্বে’, যেখানে কোনো কোনো হিসাবে ৬৫টি সংঘাত বা যুদ্ধ চলছে—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
তাঁর ভাষ্য, বৈশ্বিক নিরাপত্তা নির্ভর করবে বড় শক্তিগুলো—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—কী করে তার ওপর: তারা সহযোগিতা বেছে নেবে, নাকি সংঘাত। ভূরাজনৈতিক উত্থান-পতন নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা ও লেখালেখি করা স্টাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ মোকাবিলায় ইউরোপের প্রচেষ্টায়, বিশেষ করে ইউক্রেনের জন্য শান্তিচুক্তির প্রশ্নে, ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত রয়েছেন।
স্টাব বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য মূল প্রশ্ন হলো এমন একটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা, যা নিশ্চিত করবে রাশিয়া আর তার প্রতিবেশীদের আক্রমণ করবে না।’ তাঁর মতে, ন্যাটো একটি অত্যাবশ্যক নিরাপত্তা জোট হিসেবে থাকবে, তবে রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ‘আস্থা’ গড়তে আস্থা-নির্মাণমূলক ব্যবস্থাসহ নতুন প্রক্রিয়াও গড়ে তোলা দরকার।
চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও হতাশ না হয়ে নতুন একটি ‘আলোর যুগের’ জন্য উচ্চাভিলাষী হতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান স্টাব। তিনি বলেন, ৩০ বছরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশের সংখ্যা বর্তমান ২৭ থেকে বেড়ে ৪০ হতে পারে—যুক্তরাজ্যের পুনরায় যোগদানসহ নরওয়ে, মলদোভা ও ইউক্রেন এর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

