ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে ব্যর্থ সরকার, চলবে বিক্ষোভ
ফ্রান্সের সরকার সোমবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে রাজি করাতে পারেনি। প্যারিসে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর সঙ্গে বৈঠকের পর মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের প্রস্তাবে তাঁরা সন্তুষ্ট নন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
বৈঠকে শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক মন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে ও ফিলিপ বাতিস্তও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী সংগঠন ‘লে লিসেয়াঁ!’-এর সহসভাপতি লুই ল্যতুবলোঁ বলেন, তাঁদের সব দাবি পূরণ হয়নি এবং তাঁরা শেষ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
ল্যতুবলোঁ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ৩১ অক্টোবর ও ৫ নভেম্বর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এই সপ্তাহান্তে এবং পরের সপ্তাহান্তেও বিক্ষোভ চলবে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ অতিরিক্ত আসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভালো পরিবেশ, আরও শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বাছাই প্রক্রিয়ার বড় ধরনের সংস্কার।
সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্ল্যাটফর্ম ‘পারক্যুরসুপ’ সংস্কারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে, যার কাজ শুরু হতে পারে ২০২৮ সালে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো এই প্ল্যাটফর্মকে অস্বচ্ছ এবং বৈষম্যের উৎস বলে মনে করে।
সরকার বিদ্যালয় সংস্কারে আরও অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিল্প, স্বাস্থ্য ও কারিগরি শিক্ষায় অতিরিক্ত ১৫ হাজার আসন এবং মাধ্যমিকের প্রথম বর্ষে প্রতি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ২৮ জন শিক্ষার্থী রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
ফরাসি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত এসব প্রস্তাব বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরাও নিশ্চিত করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইউএনইএফ দুপুরেই সরকারের প্রস্তাবের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বলেছে, সরকার আবারও মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটি বলেছে, সরকারের কৌশল যদি দাবির প্রতি অবজ্ঞা দেখানো হয়, তাহলে তাঁরা রাস্তায় ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং পিছু হটবেন না।
এই মাসের শুরুতে বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবরোধ ছিল ব্যাপক সামাজিক অসন্তোষের প্রথম প্রকাশগুলোর একটি। পরে সেই অসন্তোষ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং দুই সপ্তাহ আগে তা দাঙ্গায় গড়ায়।

