শেরপুরের শ্রীবরদীতে জমি না থাকায় বসতঘরের একপাশ ভেঙে দাফন, অন্য পাশে থাকছেন স্ত্রী

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতীহাটি ইউনিয়নের শালমারা এলাকায় নিজের জমি না থাকায় আব্দুল করিম (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে তাঁর বসতঘরের একপাশ ভেঙে সেখানেই দাফন করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে এই ঘটনা ঘটে।
আব্দুল করিম শালমারা গ্রামের মৃত শমসের আলীর ছেলে। স্বজনরা জানান, রবিবার বিকেলে তিনি মারা যান। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়। এখন ওই ঘরের এক পাশে তাঁর কবর, অন্য পাশে বসবাস করছেন স্ত্রী সাজেদা খাতুন (৫৫)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল করিমের বসতভিটা ছাড়া কোনো জায়গাজমি নেই। শালমারা এলাকায় পারিবারিক কবরস্থান ছাড়া কোনো গণকবরস্থানও নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যাদের পরিবারের নিজস্ব কবরস্থান নেই, তারা এই কারণে ব্যাপক বিড়ম্বনায় পড়ছেন। কেউ কেউ বাড়ির আঙিনায়, বসতবাড়ির সামনে বা বসতঘরের পাশে মরদেহ দাফন করে থাকেন। আব্দুল করিমের বসতঘরের জায়গা ছাড়া আর কোনো জমি না থাকায় তাঁকে বসতঘরেই দাফন করতে হয়েছে।
শালমারা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, তাঁরা এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের কাছে শালমারা গ্রামে একটি গণকবরস্থানের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। কেউ এগিয়ে না আসায় আব্দুল করিমকে তাঁর ঘরেই দাফন করা হলো। বিষয়টিকে তিনি খুবই দুঃখজনক ও লজ্জার বলে বর্ণনা করেন।
আব্দুল করিমের মেয়ে করফুলি ও রিক্তা পারভীন জানান, তাঁদের বসতঘরের জমি ছাড়া আর কোনো জমি নেই, তাই বাধ্য হয়ে বাবাকে ঘরেই দাফন করেছেন। আর কোনো স্বজনকে বা এলাকার অন্য কাউকে যেন ঘরে দাফন করতে না হয়, সেজন্য তাঁরা এলাকায় একটি গণকবরস্থান তৈরির দাবি জানিয়েছেন।
তাতীহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, শালমারা এলাকায় কোনো গণকবরস্থান নেই এবং বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পাশের ষাইটকাকড়া গণকবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা আহমেদ বলেন, বসতঘরের একপাশ ভেঙে বৃদ্ধের মরদেহ দাফনের কথা তিনি শুনেছেন এবং এখন তাঁকে অন্য স্থানে দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।


