এক নেতাকে ঘিরে অন্যদের অবদান আড়াল করা হয়েছে, বর্তমান সরকারও ব্যতিক্রম নয়: আখতার হোসেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একজন নেতাকে কেন্দ্র করে অন্য জাতীয় নেতাদের অবদান আড়াল করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারও তাদের যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীতে তিন নেতার মাজার প্রাঙ্গণে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শেরে বাংলার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তি সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
আখতার হোসেন বলেন, জাতীয় নেতাদের জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পাঠ্যপুস্তক ও গণমাধ্যমে তাদের নিয়ে আলোচনা বাড়ানো জরুরি।
শেরে বাংলার কৃষকবান্ধব রাজনীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন কাজ করেছেন এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ উপেক্ষা করে হিন্দু-মুসলমান কৃষকদের ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার আদর্শ অনুসরণ করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে সার সংকট, ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট কৃষকদের সংকট বাড়াচ্ছে। পঞ্চগড়ে দুই টাকার লাউ ঢাকায় ৬০ টাকায় বিক্রির উদাহরণ দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কৃষক কেন তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন না?
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ করা, হিমাগার ও শস্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ, কৃষিঋণে সহানুভূতিশীল নীতি গ্রহণ এবং সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, শেরে বাংলার কৃষকবান্ধব আদর্শ দেশের সব রাজনৈতিক দলের অনুসরণ করা উচিত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আকরাম হোসাইন, জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্য সচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম, মুখ্য সংগঠক নফিউল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব মাহদী এবং কেন্দ্রীয় সদস্য দিদার শাহসহ অন্যান্য নেতারা।




