প্রোস্টেট ক্যানসারে কার শক্তিশালী চিকিৎসা দরকার, নতুন পরীক্ষায় মিলতে পারে ইঙ্গিত
একটি নতুন ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত পুরুষদের চিকিৎসা নির্ধারণে চিকিৎসকদের সাহায্য করতে পারে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। ডেসিফার নামের টিস্যুভিত্তিক আণবিক পরীক্ষাটি বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে, উচ্চ ঝুঁকির প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত কোন রোগীদের শক্তিশালী চিকিৎসায় উপকার মিলবে এবং কারা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে পারবেন।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) গবেষকরা এই বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের কাজের কেন্দ্রে ছিল অ্যাবিরাটেরোন নামের হরমোন থেরাপি, যা স্ট্যাম্পিড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে উচ্চ ঝুঁকির, স্থানীয়ভাবে সীমাবদ্ধ প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত পুরুষদের মৃত্যুর ঝুঁকি অর্ধেকে নামিয়ে আনতে দেখা গেছে।
গবেষণার ফলাফল মাদ্রিদে ২৩ থেকে ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিক্যাল অনকোলজি (ইএসএমও) কংগ্রেস ২০২৬-এ উপস্থাপন করা হয়েছে।
ডেসিফার পরীক্ষা সেই সিদ্ধান্তে সাহায্য করতে পারে কি না, তা বুঝতে গবেষকরা বাস্তব তথ্যে ২৭ হাজারের বেশি রোগীর পরীক্ষার স্কোর এবং স্ট্যাম্পিড অ্যাবিরাটেরোন ট্রায়ালে অংশ নেওয়া নন-মেটাস্ট্যাটিক প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত ৪০১ জন পুরুষের তথ্য পরীক্ষা করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ডেসিফার স্কোর বেশি হলে ফলাফল খারাপ হওয়ার পূর্বাভাস মিলেছে। এর অর্থ, সেই ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি এবং অতিরিক্ত চিকিৎসা সেখানে মূল্যবান হতে পারে। অন্যদিকে স্কোর কম হলে ধারণা পাওয়া গেছে, আরও নিবিড় চিকিৎসা হয়তো প্রয়োজন নাও হতে পারে।
ইউসিএলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক চিকিৎসা দিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেড়ে যেতে পারে এবং জীবনযাত্রার মান কমে যেতে পারে। আণবিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যানসারগুলো একে অপরের থেকে আলাদা হওয়ায় প্রতিটি রোগী হরমোন থেরাপি যোগ করে একই উপকার পান না।
প্রধান গবেষক ইউসিএল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ডা. সারাহ হাউলেট এক বিবৃতিতে বলেন, খুব উচ্চ ঝুঁকির প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে রোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারা অতিরিক্ত চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন, তা বুঝতে পারলে অর্থবহ পার্থক্য তৈরি হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গবেষকদের মতে, ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে জিনোমিক পরীক্ষা চিকিৎসাকে রোগী অনুযায়ী সাজাতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ ঝুঁকির প্রোস্টেট ক্যানসার থাকলেও যাদের ডেসিফার স্কোর কম, তাদের রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কম থাকতে পারে এবং তারা আরও নিবিড় থেরাপি এড়াতে পারেন। আর যাদের স্কোর বেশি, তারাই অতিরিক্ত চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হতে পারেন।


