লন্ডনে ব্যালন ডি’অর: টানা তৃতীয়বার সেরা তরুণ ইয়ামাল, সেরা কোচ স্পেনের দে লা ফুয়েন্তে
প্রথমবারের মতো লন্ডনে আয়োজিত হয়েছে ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কারের অনুষ্ঠান ব্যালন ডি’অর। ১৯৫৬ সালের প্রথম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউসকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই আয়োজন লন্ডনে নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে এই অনুষ্ঠানটি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং ২০১৯ সাল থেকে এটি প্যারিসের থিয়েটার দ্য চাতেলে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। লন্ডন প্যালাডিয়ামে গায়ক-গীতিকার জোরজা স্মিথের একটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট পর অনুষ্ঠান শুরু হয়।
২০০৪ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো সেরা তরুণ প্রতিভার পুরস্কারটি প্রদান করেন। ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার লামিন ইয়ামাল টানা তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কারটি জিতলেন।
থিয়েরি হেনরি ইয়ামালকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার তৃতীয় পুরস্কার, কিন্তু আজ রাতে কি এটিই আপনি পেতে চেয়েছিলেন...’
বর্ষসেরা পুরুষ তরুণ খেলোয়াড় ইয়ামাল বলেন, ‘এখানে উপস্থিত থাকতে পেরে এবং এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমি আমার সতীর্থ কুবারসিকে এখানে দেখতে পেলে খুশি হতাম, কারণ আমার মনে হয় এই পুরস্কারটি তারই পাওয়া উচিত ছিল। সে দীর্ঘদিন ধরে দুর্দান্ত ছন্দে খেলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পুরস্কারের জন্য আমি পরপর তিনটি বছর এখানে এলাম। আমি আমার ক্লাব এবং জাতীয় দলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
বার্সেলোনা ও স্পেনের ফরোয়ার্ড ভিকি লোপেজ টানা দ্বিতীয়বারের মতো নারী বর্ষসেরা তরুণ প্রতিভা পুরস্কার জিতেছেন। লুসি ব্রোঞ্জ তার হাতে ট্রফি তুলে দেন। এই পুরস্কারে এ পর্যন্ত বিজয়ী হওয়া দুজন খেলোয়াড়ই বার্সেলোনার।
নারীদের বর্ষসেরা কোচ হয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ। লিভারপুল ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ রাফা বেনিতেজ এই পুরস্কারটি প্রদান করেন।
রোমেউ বলেন, এখানে উপস্থিত থাকতে পেরে এবং এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পেরে তিনি আনন্দিত, সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি একটি দলগত পুরস্কার, দলের সবার সম্মিলিত অর্জনের স্বীকৃতি। গত মৌসুমে যেসব ফুটবলার আমার সাথে ছিলেন, তাদের সবার প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’
অনুষ্ঠানে একটি সুন্দর মুহূর্ত তৈরি হয় মনোনীতদের অন্যতম ভিনসেন্ট কোম্পানির প্রতি সুস্থতা কামনার মধ্য দিয়ে। বায়ার্ন মিউনিখের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে গত শুক্রবার অসুস্থ হয়ে পড়ে যাওয়ার পর তিনি বর্তমানে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
রাতজুড়ে স্পেনের আধিপত্য বজায় ছিল। স্পেনকে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়া লুইস দে লা ফুয়েন্তে বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন।
দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘শুভ সন্ধ্যা, এই পুরস্কার পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এই মনোনীতদের তালিকায় থাকাটাই দারুণ একটি ব্যাপার। অন্য মনোনীতদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ এই পুরস্কার পাওয়ার জন্য তাদের অবদানও যথেষ্ট ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ দলের, একটি দুর্দান্ত দলের সাফল্য। আপনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আপনাদের সাথে কাজ করা আমার জন্য সম্মানের। আমি স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’


