জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও ট্রাম্পের পাশেই মিশিগানের ম্যাগা সমর্থকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হিউরন শহরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমাবেশে আসা তাঁর ‘ম্যাগা’ সমর্থকেরা বলেছেন, গ্যাস ও ডিজেলের পাম্পে এবং মুদি দোকানে দাম বাড়লেও তাঁরা ট্রাম্পের পাশেই আছেন। লেক হিউরনের তীরের এই ছোট শহরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ২০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
ওয়ারেন শহরের বাসিন্দা ক্যারল মোকান বলেন, ‘তিনি আমাদের সর্বোত্তম স্বার্থই মনে রাখেন। তিনি তাঁর দেশকে ভালোবাসেন এবং আমাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে তিনি সঠিক কাজগুলোই করছেন।’
বে সিটির বাসিন্দা জেমস ব্লেক বলেন, ‘আমি জানি ট্রাম্প সব সময় সবার আগে আমেরিকার স্বার্থের কথাই ভাবেন। আর এটাই আমার সত্যিই পছন্দ।’
মেরিসভিলের লিন্ডা ট্যাগার্ট বর্তমান উচ্চ দামকে ‘দীর্ঘমেয়াদি লাভের জন্য স্বল্পমেয়াদি কষ্ট’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যটা দেখি এবং আমরা সেটিকে সমর্থন করি।’
পোর্ট হিউরনের বাসিন্দা বব কেম্প বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে হোয়াইট হাউসে চার বছরের ডেমোক্র্যাটিক নিয়ন্ত্রণের পর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনছেন। তাঁর ভাষায়, ‘যখন আপনি কোনো কিছু মেরামত করেন, তখন ভালো হওয়ার আগে তা সব সময় আরও খারাপ হয়।’
পোর্ট হিউরনের আরেক বাসিন্দা মাইকেল ব্যাচেলার বলেন, সাশ্রয়ের এই সমস্যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর ভোটে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি একে সাময়িকভাবে দিতে হওয়া ‘ছোট মূল্য’ বলে বর্ণনা করেছেন।
উচ্চ দামের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেন কি না জানতে চাইলে পোর্ট হিউরনের জুডিথ ট্রয় বলেন, ‘হ্যাঁ এবং না-ও, কারণ তিনি যা করতে হয় তা-ই করছেন। তাতে দাম বাড়ে, কিন্তু তিনি তা একটি ভালো উদ্দেশ্যেই করছেন, কাজেই এটা প্রত্যাশিত।’
কংগ্রেসের হাউস ও সিনেটে নিজেদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়ছে রিপাবলিকানরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের বছরে ওয়াশিংটনে ক্ষমতায় থাকা দল ঐতিহ্যগতভাবে আসন হারায়। এর সঙ্গে রয়েছে জরিপে অজনপ্রিয় হিসেবে দেখা দেওয়া ইরান যুদ্ধের সঙ্গে আংশিকভাবে জড়িত দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ।
ফক্স নিউজের সর্বশেষ জাতীয় জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার দাঁড়িয়েছে ৩৬ শতাংশ, যা এই সংস্থার জরিপে তাঁর সর্বনিম্ন। কিন্তু নিজেদের ‘ম্যাগা’ ভোটার বলে পরিচয় দেওয়াদের মধ্যে তাঁর অনুমোদন হার রয়ে গেছে ৯৫ শতাংশে।
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি ইরান কখনোই, কখনোই, কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার কারণ হিসেবে তিনি এই যুক্তিই তুলে ধরেন।
জেমস ব্লেক বলেন, ট্রাম্প ‘ইরানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইটা নিয়ে গেছেন’। ক্যারল মোকান বলেন, তিনি উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেন না, ‘কারণ ইরানকে সামলানো দরকার ছিল।’
ক্লিওর বাসিন্দা কেন গানেলস বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান এই দেশের জন্য সত্যিকারের হুমকি ছিল। তাঁর ভাষায়, কোনো বড় শহরে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হলে দেশকে যে পরিণতি ভোগ করতে হতো, তা কারো ধারণার বাইরে।
অন্য কয়েকজন ম্যাগা ভোটার বলেন, যুদ্ধ ও অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আরেকটি বিষয় তাঁদের কাছে সবার ওপরে। বার্চভিলের বাসিন্দা স্টিভ স্কাউটেন বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় বিষয় হলো অভিবাসন। আপনি যদি এখানে অবৈধভাবে থাকেন, তাহলে আইসিইর পক্ষ থেকে আপনার দরজায় কড়া নাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
স্কাউটেনের দীর্ঘদিনের বন্ধু ব্যাচেলারও তাঁর সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, একটি বিষয় বেছে নিতে হলে তিনিও অভিবাসন নীতিকেই বেছে নেবেন। ব্লেক জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ‘সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছেন’।
ব্লেক আরও বলেন, ট্রাম্প নারীদের খেলায় পুরুষদের অংশ না নেওয়ার পক্ষে এবং বকশিশ, অতিরিক্ত সময়ের কাজ ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ওপর কর না নেওয়ার পক্ষেও কথা বলেছেন, যা তাঁর পরিবারের অনেক সদস্যের জন্য ‘বিশাল’ বিষয়।
পোর্ট হিউরনের রোলান্ডে ডেবেল বলেন, তিনি ‘সম্পূর্ণভাবে ট্রাম্পের পক্ষে’, কারণ ‘এটা আমেরিকান হওয়ার বিষয়, আমাদের স্বাধীনতার বিষয়, আমাদের অধিকারের বিষয়।’
সাক্ষাৎকার দেওয়া ম্যাগা ভোটারদের কেউই বলেননি যে তাঁরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোনো ডেমোক্র্যাটকে ভোট দেবেন। জুডিথ ট্রয় বলেন, ডেমোক্র্যাটরা যা বিশ্বাস করে তার অনেক কিছুই তিনি পছন্দ করেন না।
ক্যারল মোকান বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ‘বাকি আমাদের মতো একই জগতে বাস করে না; তারা মানুষের কথা ভাবে না, তারা তাদের কর্মজীবনের কথা ভাবে।’ জেমস ব্লেক বলেন, তিনি ‘সমাজতন্ত্রের ব্যবসায়’ নেই এবং তিনি মনে করেন ডেমোক্র্যাটরা সেদিকেই যাচ্ছে। স্টিভ স্কাউটেন বলেন, তিনি ‘আগে ডেমোক্র্যাট ছিলেন’, কিন্তু ‘আর কখনো নয়; তারা অনেক বেশি বামে চলে গেছে।’




