চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৫ হাজার ৯৭২ জন, মৃত্যু ৩৩ জনের: নভেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান চসিক প্রশাসকের
বৃষ্টি কমে গেলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমেনি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। গত বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়ে তিনি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলেছেন এবং নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নগরের টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার উপজেলাগুলোতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৯৭২ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকে আসা ৭০৮ জন রোগীও রয়েছেন।
এ সময়ে ডেঙ্গুতে মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জন নারী, ৯ জন শিশু ও ৬ জন পুরুষ। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৯১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
মহানগর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ৪৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন হালিশহরে। এ ছাড়া কোতোয়ালীতে ৩৩৪ জন, বন্দরে ৩২৪ জন, পাহাড়তলীতে ৩০৪ জন ও বাকলিয়ায় ২৫৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ৮৪৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন সীতাকুণ্ডে। কর্ণফুলীতে ৩২৩ জন ও বাঁশখালীতে ২৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
সভায় উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৪৩০ জন এবং অক্টোবরে ২৬ তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ১২৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টবের নিচে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও পুরোনো টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হতে পারে। তাই কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সভায় জানানো হয়, চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ছোট ওয়ার্ডগুলোতে তিনজন করে এবং বড় ওয়ার্ডগুলোতে পাঁচজন করে কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০ জন কর্মী এ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। মশক নিয়ন্ত্রণে বিটিআইসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের কার্যক্রমও চলছে। প্রশাসক এসব কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাসময়ে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মশারির মধ্যে রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ানোর পর সেই মশার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


