অস্ট্রেলিয়ায় এমপিদের নিরাপত্তায় দ্রুত ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি আলবানিজের, বিবেচনায় প্যানিক বাটন

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এমপিদের নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে সরকারের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং নির্বাচনী এলাকার কার্যালয়গুলোতে জরুরি অ্যালার্ম বা প্যানিক বাটন দেওয়ার প্রস্তাব তুলেছেন। তিনি বলেছেন, রাজনীতিক ও তাঁদের কর্মীরা অনেক দিন ধরে হুমকি সহ্য করে আসছেন।
লেবার পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠকে আলবানিজ এই প্রতিশ্রুতি দেন। গত সপ্তাহে ইন্ডি এলাকার এমপি ড. হেলেন হেইনসের ওপর কথিত হামলার পর এটিই ছিল লেবারের প্রথম সংসদীয় বৈঠক।
বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে সিনেটর ফাতিমা পেম্যান আবারও তাঁর কার্যালয়ে কর্মী স্বল্পতার বিষয়ে সাবেক সরকারি সহকর্মীদের সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী কি ড. হেলেন হেইনসের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তাঁর কার্যালয়ে তেমন কিছু ঘটার অপেক্ষা করছেন।
কথিত হামলার পর রাজনৈতিক বিভাজনের দুই পক্ষের এমপিরাই নিজ নিজ কার্যালয়ের জন্য আরও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলেছেন এবং কর্মীদের প্রতি হুমকি ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। রাজনীতিকেরা অনলাইন ও অফলাইনে তাঁদের প্রতি মৃত্যু ও ধর্ষণের হুমকিসহ অপব্যবহারের মাত্রাও প্রকাশ করছেন।
বৈঠকে দীর্ঘ বক্তব্যে আলবানিজ বলেন, এই সপ্তাহকে নাগরিক আলোচনা ও হুমকির প্রতি প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি মোড় পরিবর্তনকারী সপ্তাহ হতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, রাজনীতিকদের নিরাপত্তায় আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
আলবানিজ বলেন, এমপিরা অনেক দিন ধরে হুমকির পরিবেশ সহ্য করে আসছেন, সরকারকে আরও কিছু করতে হবে এবং আরও কিছু করা যায় ও করা উচিত। তিনি বলেন, অন্যের কর্মস্থলের নিরাপত্তায় এমপিরা অনেক কিছু উৎসর্গ করেছেন এবং তিনি নিজে এমপি ও তাঁদের কর্মীদের নিরাপত্তায় সবকিছু করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আলবানিজ সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের কথা জানাননি, তবে নিরাপত্তার বিষয়ে দ্রুত সরকারি প্রতিক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক এমপি নিরাপত্তা ঘটনার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার জন্য ড্যুরেস অ্যালার্ম বা প্যানিক বাটন পাওয়ার প্রস্তাব তুলেছেন এবং এটি বিবেচনাধীন একগুচ্ছ বিকল্পের একটি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কও বৈঠকে জানান, নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নানা পরিবর্তন বিবেচনা করা হচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া ও প্রস্তাব প্রকাশ পেতে পারে। এমপিদের তোলা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী কার্যালয়ের আরও বেশি নিরাপত্তা ও শক্তিশালীকরণ, ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে আরও ভালো যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত বাড়ির নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ও আলোসহ সরঞ্জাম—সবই বিবেচনাধীন বলে বোঝা যাচ্ছে।
কমনওয়েলথ কর্মস্থল নিয়ে চলমান একটি পর্যালোচনাও লেবার সরকার দ্রুত সম্পন্ন করবে এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ শিগগিরই আসবে বলে জানানো হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর কোয়ালিশনের সংসদীয় বৈঠকে তাঁর এমপিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনার কথা জানান এবং বিষয়টি সঠিকভাবে করার গুরুত্বের কথা বলেন, তবে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব তোলেননি।
পেম্যান ২০২৪ সালে লেবার ছেড়ে ক্রসবেঞ্চে বসেন। সোমবার রাতে তিনি অতিরিক্ত কর্মীর অনুরোধে প্রধানমন্ত্রীর সাড়া না দেওয়ার সমালোচনা করেন; অন্য স্বতন্ত্র কার্যালয়গুলোর মতো তাঁর কার্যালয়েও কর্মী দেওয়ার দাবি ছিল তাঁর।
সিনেটের হিসাব শুনানিতে পেশ করা একটি অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, সব রাজনীতিক নির্বাচনী কার্যালয়ের কর্মী পেলেও পেম্যানের কোনো উপদেষ্টা নেই, যেখানে অন্য ১৬ জন ক্রসবেঞ্চ এমপি ও সিনেটর মিলে ৩০ জন উপদেষ্টা ভাগাভাগি করেছেন। ব্যক্তিগত কর্মী বরাদ্দের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাধীন।
শুনানিতে মন্ত্রী ডন ফ্যারেলের কাছে পেম্যান প্রশ্ন তোলেন, কর্মী বরাদ্দের এই ঘাটতি কি আলবানিজের তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে, এবং তিনি দাবি করেন তাঁর কর্মীরা মারাত্মকভাবে অতিরিক্ত চাপে আছেন। তিনি বলেন, এই ভবনে কাজ করা মানুষের কল্যাণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিই চিন্তিত হন, তাহলে তাঁর কর্মীরা যে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, সে বিষয়টি যেন দেখা হয়।
ফ্যারেল ও শুনানিতে থাকা অন্য লেবার সিনেটরেরা এই ইঙ্গিত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন, তবে কর্মীর অনুরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানান পেম্যান।
পেম্যান গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে লেবার ছাড়ার পর থেকে মৃত্যু হুমকি ও ঘৃণামূলক মন্তব্যের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তিনি জানান, গত বছর তাঁর কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মানুষের মলমূত্রযুক্ত ডাক খুলেছিলেন, যার ফলে জৈব-ঝুঁকি দলকে ডাকতে হয়েছিল এবং হ্যাজমাট স্যুট পরা কর্মীরা কার্যালয়ে এসেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা কর্মীদের ওপর ভয়াবহ মানসিক আঘাত সৃষ্টি করে এবং কোনো কার্যালয় বা কর্মীর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়।


