মিরপুরে কাল থেকে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট: পয়েন্ট টেবিলে চোখ রেখে দুই জয়ের লক্ষ্য অধিনায়ক চেজের

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান উন্নত করাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান লক্ষ্য। এই চক্রে অবস্থান বদলাতে হলে এই সিরিজে জয়ের বিকল্প দেখছেন না ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোস্টন চেজ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চেজ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ; খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টায়।
চেজ বলেন, এটি এই চক্রে তাঁদের শেষ সিরিজ। টেবিলে অবস্থান উন্নত করতে হলে এই সিরিজে জয় ছাড়া উপায় নেই। তাঁরা চলতি বছরে চারটি টেস্টে ভালো খেলেছেন এবং এই সিরিজে দুটি জয় পেয়ে ভালো অবস্থানের মাধ্যমে বছর শেষ করতে চান, যা তাঁদের জন্য বড় উপহার হবে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। সিরিজে পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য থাকলেও কাজটি সহজ হবে না তা সফরকারীরা ভালোভাবেই জানে। বাংলাদেশের পরিচিত কন্ডিশনে স্বাগতিকদের মোকাবিলা করতে হলে ব্যাটিং, বোলিং ও পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষেত্রে কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন চেজ।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তিনি। প্রতিপক্ষকে সমীহ করার পাশাপাশি মিরপুরের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক।
সাম্প্রতিক সিরিজে ব্যাটিং নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ব্যাটিংয়ের ধরনে পরিবর্তন আনা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চেজ জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোনো স্টাইল অনুসরণ করে খেলতে চায় না দল। তাঁর মতে, প্রত্যেক ব্যাটারের নিজস্ব শক্তি ও দুর্বলতা রয়েছে; তাই উইকেটের অবস্থা, স্কোরবোর্ড ও ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝেই ঠিক করতে হবে কীভাবে ব্যাটিং করা হবে।
মিরপুরের উইকেট নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন চেজ। তাঁর ধারণা, উইকেটের ওপরের অংশে সামান্য ঘাস থাকলেও নিচের অংশ বেশ শুষ্ক, ফলে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাধারণত স্পিন উইকেটই বেশি দেখা যায়, তাই তাঁরা আশা করছেন এখানেও স্পিনাররা ভালো সুবিধা পাবেন। তবে দুই দলকেই একই উইকেটে খেলতে হবে, তাই যে দল পরিস্থিতির সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই জয়ী হবে।
বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ সফরকারীদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো বোলিং করা নাঈম হাসানের প্রসঙ্গ উঠলে চেজ বলেন, তিনি ভালো বল করছেন এবং এটি তাঁদের জন্য একটি ভালো চ্যালেঞ্জ হবে।
উইন্ডিজ স্কোয়াডে নেই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার। চেজের মতে, তাঁর অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ক্ষতি; তিনি সব ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব করেছেন এবং দারুণ ফর্মে রয়েছেন, তাই তাঁর অভাব পূরণ করা সহজ নয়। তবে একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর না করে স্কোয়াডে থাকা ১৫ জন খেলোয়াড়ের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ সফরের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার চেন্নাইয়ের ক্যাম্পে ছিলেন। অন্যরা ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ও সীমিত ওভারের সিরিজে অংশ নিয়েছেন। ফলে পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবে প্রস্তুতির সময় বেশি না পেলেও নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট চেজ। তিনি জানান, দল দুটি ভালো অনুশীলন সেশন ও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে, খেলোয়াড়রা বাংলাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে বেশ মানিয়ে নিয়েছেন এবং আবহাওয়া স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা গরম হলেও তা প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা নেই স্কোয়াডের এমন ১০ জন সদস্যের জন্যও অধিনায়কের বার্তা হলো — পূর্বধারণা বা ভয় নিয়ে না খেলে পরিস্থিতি বুঝে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলা।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চেজ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো দলকেই সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে তুলনামূলক ছোট দলগুলোও নিজেদের খেলার মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতিতেও কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ; ভারত কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়, বাংলাদেশের বিপক্ষেও একই গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামতে চায় দলটি।


