খুলনার দিঘলিয়ার পানিগাতীতে জামায়াত নেতা ও শ্রমিক নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আহত মেহেদী হাসান হাসপাতালে

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার পানিগাতী গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান এবং দিঘলিয়া শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি তাসনিম হাসানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মেহেদী হাসান (৪৬) নামে একজন আহত হয়েছেন। তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার পানিগাতী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগীরা জানান, সোমবার বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে হামলাকারীরা প্রথমে পানিগাতী গ্রামে উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি তাসনিম হাসানের বাড়িতে এবং পরে একই গ্রামের জামায়াত নেতা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুর রহমানের বাড়িতে আচমকা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
এ সময় হামলাকারীরা আজিজুর রহমানের বড় ছেলে ও স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আহসানুল হক হিরোকে ধাওয়া করে। তাসনিম হাসানের বড় ভাই মেহেদী হাসানকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা বাড়ির নারী ও শিশুদেরও গালিগালাজ করে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আজিজুর রহমানের বড় ছেলে আহসানুল হক হিরো অভিযোগ করেন, সোমবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে দিঘলিয়ার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এম সাইফুর রহমান মিন্টু ওরফে মিন্টু মোল্লার নেতৃত্বে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রধারী শতাধিক সন্ত্রাসী পানিগাতীর ইউপি সদস্য ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আজিজুর রহমান ও তাসনিম হাসানের বাড়িতে হামলা চালায়।
তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় হামলাকারীরা গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এছাড়া বাড়িতে থাকা যুবক, শিশু ও নারীদের গায়েও হাত তোলা হয়। হামলাকারীদের মারধর ও সহিংসতায় তাসনিম হাসানের বড় ভাই মেহেদী হাসান গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া এম সাইফুর রহমান মিন্টু ওরফে মিন্টু মোল্লা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে আহসানুল হক হিরো আরও অভিযোগ করেন, তাঁর পিতা আজিজুর রহমান জামায়াত মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী। তাঁর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
একটি স্বাধীন ও সভ্য সমাজে এ ধরনের হিংসাত্মক হামলা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে ভুক্তভোগী পরিবার এর তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে হামলায় জড়িত মূল হোতাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরূপ চৌধুরী বলেন, পলিটিক্যালি একটু বিশৃঙ্খলা হয়েছে। একটু ভাঙচুরও হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




