এক বছরের বেশি সময় পর পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন ইউরোপের দুই নেতা: হেলসিঙ্কি থেকে ফোন নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্তোরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যৌথ ফোনালাপ করেছেন—ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে পুতিনের এ ধরনের বিরল যোগাযোগ এটি।
তাঁদের দপ্তর জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে সাহায্য করবে এমন ‘ভবিষ্যৎ আলোচনার’ দিকে তাকানো। তাঁরা বলেছেন, এই উদ্যোগ ‘সমগ্র ইউরোপের পক্ষে’ নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবারের এই ফোনালাপটি হয় ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি থেকে। স্টাব ও স্তোরে বলেছেন, ‘ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের সীমান্ত রাশিয়ার সঙ্গে’ এবং রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন, যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ইউরোপে শান্তি ও স্থিতি এগিয়ে নেওয়া নিয়ে আলোচনা করতেই তাঁরা এই ফোনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই যুদ্ধের মানবিক ও বস্তুগত ক্ষতি বিপুল।’ ‘এই দুর্ভোগ ও ধ্বংস প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রভাব ফেলবে।’ স্টাব বলেছেন, মঙ্গলবারের ফোনালাপ ছিল ‘খোলামেলা ও সারগর্ভ’ এবং যুদ্ধের ফলাফল ‘আমাদের ও আরও বিস্তৃত ইউরোপীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।’
ফোনালাপের পর পুতিন বলেছেন, ইইউ ও ন্যাটোর ‘সংঘাতমূলক’ নীতি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে। এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পুতিনের সঙ্গে তাঁদের কথোপকথনের পর দুই নর্ডিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। গত সপ্তাহে অসলোতে জেলেনস্কি তাঁদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। ইউক্রেনের নেতা ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের সমকক্ষদের ‘সক্রিয় সমর্থনের’ জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
স্টাব ও স্তোরে বলেছেন, ২০ অক্টোবর নরওয়ের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত আলোচনার ধারাবাহিকতায় তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। ওই আলোচনার পর উইটকফ পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে সেন্ট পিটার্সবার্গে গিয়েছিলেন।
ওই আলোচনার পর ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার বন্ধ রাখা ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আবার শুরু করতে রাজি হয়। জেলেনস্কি বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে তাঁদের আলোচনার একটি অংশ ছিল নভেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ত্রিপক্ষীয় আলোচনা।
জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি তাঁদের সঙ্গে ‘ইউরোপে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিভিন্ন বিন্যাস’ নিয়েও কথা বলেছেন, যা কূটনীতি, প্রতিরক্ষা ও অভিন্ন নিরাপত্তাকে আরও সমর্থন করতে কাজে লাগতে পারে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে পুতিনের কথোপকথনের পর স্টাব ও স্তোরেই প্রথম ইউরোপীয় নেতা, যাঁরা ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন।
তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, তাঁর নর্ডিক প্রতিবেশীদের সঙ্গে মস্কোর মঙ্গলবারের এই সংলাপ নিয়ে তিনি ‘খুবই সন্দিহান’। ডেনমার্কের সম্প্রচারমাধ্যম ডিআরকে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বাকিদের কারও সঙ্গে এটি সমন্বয় করা হয়নি।’
মস্কো নিয়মিতভাবে ইউরোপীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ করে। কিন্তু গত সপ্তাহান্তে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, শান্তি আলোচনার টেবিলে একজন ইউরোপীয় আলোচক থাকলে তা ‘ভালো’ হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হচ্ছে—ওই সিদ্ধান্তে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রে তেল রপ্তানি করতে পারবে।




