সামাজিক মাধ্যমে অভিবাসন-আলোচনায় নজরদারির ক্ষমতা পাচ্ছে ফ্রনটেক্স, ঢেলে সাজানো হচ্ছে ইইউর সীমান্ত সংস্থাকে
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রনটেক্স এখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে থাকা তথ্য নজরদারি করতে পারবে। অবৈধ অভিবাসনের গতিপ্রকৃতি আগেভাগে বুঝতে এই ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে বলে মঙ্গলবার ফ্রনটেক্সকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় কমিশন।
নতুন পরিকল্পনায় সংস্থাটির সক্ষমতা ও ভূমিকা দুটোই বাড়ানো হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার আইনি অধিকার নেই এমন ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর কাজে ফ্রনটেক্স আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে; এমনকি জোটের সীমানার বাইরেও ফেরত পাঠানোর অভিযান চালানোর নতুন ক্ষমতা পাচ্ছে সংস্থাটি।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্রনটেক্সের ভেতরে একটি ‘অনলাইন নজরদারি ও প্রতিক্রিয়া কেন্দ্র’ গড়ে তোলা হবে। ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনা ভিরকুনেন সাংবাদিকদের বলেন, এই কেন্দ্র প্রকাশ্যে পাওয়া যায় এমন সামাজিক মাধ্যমের বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণ করে বহিঃসীমানা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনাপ্রবাহ শনাক্ত করবে এবং সীমানা নিরাপত্তার ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত অবৈধ অনলাইন বিষয়বস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবে।
এর পাশাপাশি ফ্রনটেক্স ইইউর ডিজিটাল সার্ভিসেস আইনের (ডিএসএ) আওতায় ‘বিশ্বস্ত পতাকাবাহী’ (ট্রাস্টেড ফ্ল্যাগার) হিসেবেও কাজ করবে। কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংস্থাটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে অবৈধ বিষয়বস্তু চিহ্নিত করে পাঠাবে এবং প্রয়োজনে জাতীয় কর্তৃপক্ষকে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দিতে অনুরোধ করবে। এই মর্যাদা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের চিহ্নিত করা বিষয়বস্তু প্ল্যাটফর্মগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করে থাকে।
ভিরকুনেন জানান, এই মর্যাদার জন্য ফ্রনটেক্স জাতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবে। সংস্থাটির বিশেষ দক্ষতার কারণে অনুমোদন পাওয়া যাবে বলেই তিনি আশা করেন।
সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকাকে এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রাখার পেছনে রয়েছে স্পেনের ছিটমহল সেউতার জুলাইয়ের সংকট। সে সময় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার অভিবাসী অবৈধভাবে সীমানা পেরিয়ে ঢুকে পড়েছিল, আর সেই প্রবাহ ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ভূমিকা ছিল বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।



