সার্বিয়ায় ভুচিচপন্থী টিভি স্টেশনের নিউজরুমে ঢুকে পড়লেন বিক্ষোভকারীরা, সম্পাদকের গ্রেপ্তারের দাবি
সার্বিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের সমর্থক একটি টেলিভিশন স্টেশনে ঢুকে পড়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ভোটে ভুচিচের পরাজয়ের পর দ্বিতীয় রাতের মতো হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় উদ্যাপনে নামলে সোমবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে; বিক্ষোভকারীরা সম্প্রচার ব্যাহত করে স্টেশনটির সম্পাদকের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ইনফরমার টিভির সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় ৩০ জন মানুষ স্টেশনটির নিউজরুমে ঢুকে প্রধান সম্পাদক ও মালিক দ্রাগান ভুচিচেভিচকে ঘিরে ফেলেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী স্লোগান দেন, ‘মুক্ত সার্বিয়ায় এমনই হয়!’ এবং ‘ভুচিচ এখন কোথায়?’ অন্যরা ভুচিচেভিচের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
নিজের ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভুচিচ এই ঘটনাকে বাক্স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলে মন্তব্য করেছেন। সেখানে তিনি এমন একটি জাম্পার পরা অবস্থায় ছিলেন, যাতে ‘সরি’ শব্দটি কাটা চিহ্নসহ লেখা ছিল।
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া সার্বিয়ার স্টুডেন্ট লিস্ট রোববার এক ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভুচিচের জোটকে পরাজিত করেছে; এর মধ্য দিয়ে তাঁর দলের ১৪ বছরের ক্ষমতার দখলের অবসান ঘটেছে।
ভুচিচ ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী ও ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হন। এর আগে তিনি স্লোবোদান মিলোসেভিচের অধীনে তথ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং শাসনামলে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুচিচ পরাজয় মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সার্বিয়াজুড়ে উদ্যাপন শুরু হয়; আকাশে আতশবাজি জ্বলে ওঠে।
ভোটার জানা ভাসিচ আল জাজিরাকে বলেন, এর অর্থ ১২ বছর ধরে চলা একনায়কতন্ত্র থেকে মুক্তি, যার আগের সময়টা তাঁর মনেই পড়ে না।
শিক্ষার্থী আন্দোলনের কোনো স্পষ্ট নেতা নেই; সার্বিয়ার মানুষ এখন অপেক্ষা করছেন, আন্দোলনটি কাকে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাবে তা দেখার জন্য। নির্বাচনী তালিকার শীর্ষ প্রার্থী হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ইলিয়া সর্দানোভিচ শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে সর্দানোভিচ বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে আগের মতোই শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণ থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে; কোনো ধরনের সহিংসতায় যেন কেউ না জড়ায়। তাঁর ভাষ্য, স্টুডেন্ট লিস্ট ও শিক্ষার্থী আন্দোলন এই আহ্বানই জানাচ্ছে।
সার্বিয়ার স্বতন্ত্র সাংবাদিক সমিতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইন ও অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার পদ্ধতিগত লঙ্ঘনের অভিযোগে তারা মঙ্গলবার ইনফরমার টিভির সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের আবেদন জমা দেবে।
অন্যদিকে ইনফরমারের ভুচিচেভিচ এক বিবৃতিতে বলেন, স্টুডেন্ট লিস্ট ক্ষমতার প্রথম দিনেই গণমাধ্যম নিষিদ্ধ করতে চায়; তারা নিজেদের সম্পর্কেই সবকিছু বলেছে, তাঁদের সম্পর্কে কিছুই বলেনি।
পৃথক ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় বেলগ্রেডে ভুচিচপন্থী বেসরকারি পিংক টিভি স্টেশনের বাইরেও একদল মানুষ জড়ো হন; পুলিশ স্টেশনটি ঘিরে রেখেছিল। এর আগে ভয়ভোদিনা অঞ্চলের সরকারি সম্প্রচারক আরটিভি সন্ধ্যার সংবাদ বুলেটিন শুরু করে দর্শকদের কাছে ক্ষমা চায়—একপেশে ও প্রশ্নহীন প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিজেদের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হওয়ার কথা স্বীকার করে।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে সার্বিয়ার অবস্থান ১০৪তম, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-বলকান অঞ্চলে সবচেয়ে খারাপ। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা সিআরটিএ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, জাতীয় পরিধির টেলিভিশন স্টেশনগুলো রাজনীতিবিদদের জন্য বরাদ্দ সময়ের তিন-চতুর্থাংশ দিয়েছে সরকারি প্রতিনিধিদের, আর স্টুডেন্ট লিস্টকে তাদের আলোচনার ৮০ শতাংশের বেশি সময় নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।


