খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু ও হামে ৮ জনের মৃত্যু, এ বছর মৃত্যু ১৩১
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপে গত ২৪ ঘণ্টায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী এবং দুজন হাম রোগী।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ হাজার ২৫৫ জন।
একই সময়ে বিভাগে ডেঙ্গু ও হামে মোট ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ডেঙ্গুতে ৭৬ জন এবং হামের উপসর্গে ৫৫ জন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এ সময়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৫ জনে।
ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮ হাজার ৫০৬ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৪২৮ জনকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
জেলা হিসেবে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির দিক থেকে খুলনা জেলা সবার ওপরে রয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৭০৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২৯ জন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৫৬৬ জন, মারা গেছেন ৩৫ জন, যাঁদের মধ্যে খুলনারই ২৭ জন রয়েছেন।
বাগেরহাটে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। যশোরে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৮ জন, মারা গেছেন দুজন; চুয়াডাঙ্গায় ভর্তি ২২৬ জন, মৃত্যু একজনের; ঝিনাইদহে ভর্তি ৬৪৪ জন, মারা গেছেন দুজন।
এ ছাড়া নড়াইলে ৭৩৩ জন, মাগুরায় ৪৬৭ জন, কুষ্টিয়ায় ৬২৬ জন, মেহেরপুরে ৪৭১ জন এবং সাতক্ষীরা জেলায় ৬৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তির হিসাবেও খুলনা এগিয়ে রয়েছে। এ সময়ে খুলনা জেলায় ৬৮ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন, যশোরে ৩৩ জন, ঝিনাইদহে ৩৮ জন, মাগুরায় ১৮ জন, বাগেরহাটে ১৭ জন, সাতক্ষীরা জেলায় ১৩ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, নড়াইলে পাঁচজন, কুষ্টিয়ায় ১১ জন, চুয়াডাঙ্গায় পাঁচজন এবং মেহেরপুরে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৪৫৮ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং সন্দেহজনক হামে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৫ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৭ অক্টোবর সকাল আটটা পর্যন্ত খুলনা জেলায় সন্দেহজনক হাম রোগী ২ হাজার ৮৩৮ জন; জেলায় ৫৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং সন্দেহজনক হামে মারা গেছেন ৩১ জন। কুষ্টিয়ায় সন্দেহজনক রোগী ৩ হাজার ২৯৫ জন, হাম নিশ্চিত হয়েছে ২৩ জনের এবং মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।
ঝিনাইদহে সন্দেহজনক হাম রোগী ১ হাজার ২১৬ জন, হাম নিশ্চিত হয়েছে ১৭ জনের এবং মারা গেছেন পাঁচজন। চুয়াডাঙ্গায় সন্দেহজনক রোগী ৭৬০ জন, হাম নিশ্চিত হয়নি, মৃত্যু হয়েছে একজনের; মেহেরপুরে সন্দেহজনক রোগী ৮৮১ জন, হাম নিশ্চিত হয়েছে ১০ জনের এবং মৃত্যু হয়েছে একজনের। যশোরে ৯৬৭ জন সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে ৫৮ জনের, নড়াইলে ১ হাজার ১৩ জনের মধ্যে ৮৫ জনের, বাগেরহাটে ১ হাজার ১২৮ জনের মধ্যে ৭৪ জনের এবং সাতক্ষীরায় ৫৪৮ জনের মধ্যে ৩৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে বলা হয়েছে, বিভাগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।




