সপ্তাহে একবার ওয়াল স্কোয়াটেই রক্তচাপ কমার সুফল অনেকটা ধরে রাখা যায়, গবেষণায় ইঙ্গিত

ঘরে বসে দেয়ালে হেলান দিয়ে করা ওয়াল স্কোয়াটের মতো সাধারণ ব্যায়ামও রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে। বিএমজে ওপেন স্পোর্ট অ্যান্ড এক্সারসাইজ মেডিসিনে প্রকাশিত ওই পরীক্ষায় বলা হয়েছে, জয়েন্ট না নাড়িয়ে পেশি সংকুচিত রাখার আইসোমেট্রিক ব্যায়াম মাত্র চার সপ্তাহে বিশ্রামকালীন রক্তচাপে লক্ষণীয় পতন ঘটিয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেন ১০০ জন নিষ্ক্রিয় প্রাপ্তবয়স্ক। তাঁদের সিস্টোলিক রক্তচাপ ছিল ১২০ থেকে ১৪০ মিলিমিটার পারদের মধ্যে, যাকে গবেষণায় স্বাভাবিক থেকে উচ্চ-স্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রথম চার সপ্তাহ অংশগ্রহণকারীরা বাড়িতে সপ্তাহে তিনবার নিম্নাঙ্গের আইসোমেট্রিক ওয়াল স্কোয়াট করেন। প্রতিটি রুটিনে ছিল দুই মিনিটের চারটি সেশন, মাঝে দুই মিনিট করে বসে বিশ্রাম। প্রচেষ্টা একই রকম রাখা হচ্ছে কি না, তা দেখতে তাঁদের হৃদ্স্পন্দন মাপার স্ট্র্যাপ ব্যবহার করা হয়।
চার সপ্তাহ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সিস্টোলিক চাপ গড়ে প্রায় ৯ দশমিক ৫ পয়েন্ট কমে যায়। নিয়ন্ত্রণ দলের তুলনায় তাঁদের ডায়াস্টোলিক চাপও কমেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।
এরপর গবেষকেরা দেখতে চান, ব্যায়ামের মাত্রা কমালে সুফল কতটা থাকে। পরের চার সপ্তাহ অংশগ্রহণকারীদের এলোমেলোভাবে সপ্তাহে তিনবার, দুইবার, একবার বা একবারও ব্যায়াম না করার দলে ভাগ করা হয়।
যাঁরা ব্যায়াম পুরোপুরি বন্ধ করে দেন, তাঁদের রক্তচাপ চার সপ্তাহের মধ্যে আগের মাত্রায় ফিরে যায়। গবেষণার ভাষ্যে, এতে তাঁদের অর্জিত অগ্রগতি কার্যত মুছে যায়।
অন্যদিকে যাঁরা সপ্তাহে মাত্র একবার বা দুইবার ব্যায়াম চালিয়ে যান, তাঁরা রক্তচাপ কমার একটি বড় অংশ ধরে রাখতে পেরেছেন। সপ্তাহে তিনবার চালিয়ে যাওয়া দলটিই পরবর্তী কিছু পরিমাপে মূল উন্নতি ধরে রাখে।
ফ্লোরিডার ওভাডিয়া হার্ট হেলথের হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসিম মালহোত্রা এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না। তিনি বলেন, সপ্তাহে একবার হলেও সঠিক ব্যায়ামের সামান্য পরিমাণ রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে হৃদ্স্বাস্থ্যের প্রমাণযোগ্য উপকার দেখাতে পারে। বাড়িতে ওয়াল স্কোয়াট করতে কোনো খরচ লাগে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে মালহোত্রা বলেন, শারীরিক নড়াচড়া এই চিত্রের একটি অংশ মাত্র। নিজের চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় শুধু খাদ্যাভ্যাস বদলেই অনেক রোগীর রক্তচাপে বড় উন্নতি এবং কারও কারও ওষুধ ছাড়ার মতো অবস্থা দেখেছেন বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, কম-কার্ব ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস রক্তচাপসহ বিপাকীয় স্বাস্থ্যের সব সূচকের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হস্তক্ষেপগুলোর একটি।
গবেষকেরা নিজেরাই এর সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন। দলটি ছিল তুলনামূলক ছোট—১০০ জন সাধারণভাবে সুস্থ, ধূমপান না করা প্রাপ্তবয়স্ক, যাঁরা রক্তচাপের ওষুধ খাচ্ছিলেন না। ফলে এই ফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ণীত উচ্চ রক্তচাপের রোগী, চলাচলে সীমাবদ্ধতা থাকা বয়স্ক ব্যক্তি বা ইতিমধ্যে হৃদ্রোগের ওষুধ খাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না।
রক্ষণাবেক্ষণের ধাপটি ছিল মাত্র চার সপ্তাহের। সপ্তাহে একবারের সেশন মাস বা বছর ধরে রক্তচাপের এই পতন ধরে রাখতে পারে কি না, তা জানতে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা দরকার বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। ব্যায়ামভিত্তিক গবেষণা হওয়ায় অংশগ্রহণকারী ও গবেষক—দুই পক্ষই জানতেন কে কোন দলে আছেন।



