যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বহুমুখী শান্তি পরিকল্পনা, হরমুজ খোলা নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়া ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলো একটি বহুমুখী শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার চার দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া।
আলোচনার লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইয়েমেনে হুতিদের বড় অংশের বাহিনী প্রত্যাহার। উপসাগরীয় দেশগুলোর মতে, যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলে তা হবে বিপর্যয়কর।
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত, তবে তারা একটি ছাড়ের জন্য অপেক্ষা করছে। ইউরোপীয় শক্তিগুলোর ধারণা, সেই ছাড় হতে পারে ইরানের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের আবার দেশে ঢুকতে দেওয়া।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে পরিদর্শকদের ফিরতে দেওয়ার আহ্বান জানান। ইরান এখন পর্যন্ত তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে, তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নীতিগতভাবে আলোচনা করবে।
ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, পরিদর্শকদের ইরানে ফিরে বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অগ্রগতির ন্যূনতম শর্ত।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব ড. আলি বাঘেরি বলেছেন, ইরান হরমুজ খোলার প্রস্তাবিত সময় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ওঠার সাত দিন থেকে কমিয়ে চার দিন করতে রাজি। ইরানের মনোযোগ মূলত হরমুজ খোলার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের নিশ্চয়তার ওপর।
ইয়েমেনের সমান্তরাল সংঘাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা স্বীকার করার ইঙ্গিতও দিচ্ছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই মঙ্গলবার ইরানে হুতিদের রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আল-দুলাইমির সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর ২৪ ঘণ্টা আগে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে গিয়ে ইয়েমেন সংঘাত শেষে সৌদি শর্ত এবং অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করে।
ইরান হুতিদের সমর্থন করে এবং তাদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। হুতিরা দাবি করছে, সৌদি আরব যেন হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর তাদের ভাষায় নৌ ও বিমান অবরোধ তুলে নেয়।
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ঠেকিয়ে দেয়। পরিবর্তে আলোচনার কেন্দ্রে থাকে উপসাগরীয় দেশ ও ইরানকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি কমানো বা শেষ করা।
নতুন অনাক্রমণ চুক্তিতে ইরানকে আর উপসাগরের বাকি দেশগুলোর থেকে বিচ্ছিন্ন না রাখা হলে তা ইরানের সর্বোচ্চ কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান এভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এই অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তা পরিকল্পনার অন্যতম প্রবক্তা ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেছেন, তিনি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বুঝেছে অঞ্চল এই দিকেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ইরান পুরোপুরি এই ধারণায় যুক্ত হলে আটটি দেশের মধ্যে শান্তি থাকবে এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সবার জন্য বিপুল হবে।
এ সপ্তাহে ইরানে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আরাগচি যুদ্ধ-পরবর্তী নতুন নিরাপত্তা চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সম্প্রতি নতুন যুদ্ধের কথা উঠলেও তিনি ইতিমধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী সময় নিয়ে ভাবছেন। যুদ্ধ হোক বা না হোক, তাদের নীতি একই থাকবে বলে তিনি বলেন।



