কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা প্রস্তাবে আজ জাতিসংঘে ভোট, সাধারণ পরিষদে ওয়াল্টজ-রদ্রিগেজের চিৎকার-চেঁচামেচি

কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাবে বুধবার ভোট দিতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারকে দুর্বল করার অভিযান জোরদার করেছে, যার মধ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ‘সর্বোচ্চ চাপের নীতি’র নিন্দা জানাতে এই বার্ষিক প্রস্তাব গত ৩৪ বছর ধরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তোলা হচ্ছে এবং প্রতিবারই ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে এটি ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। গত বছর ভোট হয়েছিল ১৬৫-৭, আর ১২টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। এ ধরনের প্রস্তাব আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবে তা বিশ্ব মতামতের প্রতিফলন ঘটায়।
এ বছরও প্রস্তাবটি বড় ব্যবধানে পাস হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভোটকে প্রভাবিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশ্য অভিযানের ফলে পশ্চিমা মিত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে আগের বছরের তুলনায় বেশি বিরোধিতা বা বিরত থাকা দেখা যাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
কিউবা যখন গভীর আর্থিক সংকটে ভুগছে, যুক্তরাষ্ট্র তখন ইতিমধ্যে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান আরও বাড়াচ্ছে। এর ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে আবার মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার কথা তুলে বলেন, ইরান যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ কিউবায় থামতে পারে।
ওয়াশিংটন ও হাভানার উত্তেজনা জাতিসংঘের প্রকাশ্য ফোরামেও ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের মেঝেতে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের সময় জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ও কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি হয়।
ওয়াল্টজ সমাজতান্ত্রিক সরকারের সমালোচনা শুরু করার কিছুক্ষণ পর রদ্রিগেজ হেঁটে সেই মঞ্চের কাছে যান, যেখানে মার্কিন দূত হলের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তিনি ওয়াল্টজকে মিথ্যাবাদী বলে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ আদায়ের চেষ্টা করেন।
জাতিসংঘের নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মীরা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করার সময় ওয়াল্টজ বলেন, ‘এই ব্যক্তির এই মঞ্চ থেকে সরে যাওয়া দরকার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আমাকে ভয় দেখাতে পারবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি কার সঙ্গে কথা বলছেন বুঝতে পারছেন? এটা আমেরিকা। পিছিয়ে যান।’
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রদ্রিগেজ ওয়াল্টজকে মনে করিয়ে দেন, তিনি জাতিসংঘে বক্তব্য দিচ্ছেন, হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠকে নয়। তিনি আরও লেখেন, সাধারণ পরিষদে মার্কিন সরকারের স্থূল মিথ্যা দিয়ে কিউবার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক আগ্রাসন ও অপরাধমূলক জ্বালানি অবরোধকে ন্যায্য প্রমাণের আরেকটি মরিয়া চেষ্টা শুরু হয়েছে।
এর এক সপ্তাহ আগে ওয়াল্টজ ও তাঁর কিউবান প্রতিপক্ষ আর্নেস্তো সোবেরন গুজমানের মধ্যেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেটি ঘটেছিল কিউবার ভিন্নমতাবলম্বী ও সাবেক বন্দীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত একটি প্যানেলের বাইরে, যেখানে দ্বীপটির সরকারের দমনমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল।
ফিদেল কাস্ত্রো নেতৃত্বাধীন বিপ্লবে স্বৈরশাসক ফুলহেনসিও বাতিস্তা ক্ষমতাচ্যুত হওয়া ও মার্কিন নাগরিক ও করপোরেশনের সম্পত্তি জাতীয়করণের পর ১৯৬০ সালে প্রথম কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ট্রাম্প জানুয়ারির শেষে ঘোষণা দেন, কিউবার কাছে তেল বিক্রি বা সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। এই সতর্কবার্তা কার্যত দ্বীপটিতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রান্না, পানি সরবরাহ এবং ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবার মতো মৌলিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।




