স্পেনের তোলেদোতে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহতের খবর, মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া সেবা বন্ধ

স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে বুধবার সকালে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। আরও অনেক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল অবকাঠামো কর্তৃপক্ষ আদিফ জানিয়েছে, দুটি ট্রেনের মধ্যে পেছন থেকে ধাক্কা লাগার ঘটনার পর মাদ্রিদ ও দক্ষিণাঞ্চল আন্দালুসিয়ার মধ্যে ট্রেন সেবা স্থগিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে। ওই আঞ্চলিক সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, দুর্ঘটনার কারণ ও আহতের সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সরকারের একজন মুখপাত্র টেলিভিশনে বলেছেন, মৃতের সংখ্যা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বাড়বে এবং নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকবে বলে তাঁরা জানেন।
দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটি সম্ভবত ইরিও ৭০৭৬ ও এভিই ২০৮০। ইরিও ট্রেনে ১৪৬ জন যাত্রী ও একটি শিশু ছিল এবং এভিই ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেছেন, তোলেদোর গুরুতর ট্রেন দুর্ঘটনায় তিনি মর্মাহত। তিনি পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে ও কাস্তিয়া-লা মানচার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন বলে তিনি জানান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি স্নেহ, সংহতি ও সমর্থন জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা আলবের্তো নুনেজ ফেইহো এক্সে বলেছেন, নতুন রেল দুর্ঘটনার খবরে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন। এখন অগ্রাধিকার হলো ক্ষতিগ্রস্তদের সেবা দেওয়া ও তাঁদের পরিবারকে সমর্থন করা এবং ঘটনাস্থলে কাজ করা জরুরি দলগুলোর প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গারসিয়া টেলিভিশনে এক সংক্ষিপ্ত হালনাগাদে বলেছেন, নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা নিয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য নেই, কারণ এখন মনোযোগ সব আহতের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করায় এবং হাসপাতালগুলো এ ঘটনার জন্য যতটা সম্ভব সম্পদ খালি করছে। তবে তিনি দুবার বলেছেন, এটি একটি উচ্চ-মাত্রার দুর্ঘটনা এবং এটি বড় ট্র্যাজেডিতে রূপ নেবে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
আজকের দুর্ঘটনা গত জানুয়ারিতে কর্দোবা প্রদেশের আদামুজে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ওই দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত ও ১৫২ জন আহত হয়েছিলেন।
আদিফের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার ট্র্যাক নিয়ে স্পেনের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক ইউরোপে সবচেয়ে বড় এবং চীনের পর বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম। ২০২৪ সালে রেনফে জানিয়েছিল, ওই বছর ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি যাত্রী তাদের দ্রুতগতির ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলেন।
এর আগে ২০১৩ সালে দেশটির উত্তর-পশ্চিমে সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার কাছে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৮০ জন মারা যান। তদন্তে বলা হয়েছিল, ট্রেনটি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিসীমার অংশে ঘণ্টায় ১৭৯ কিলোমিটার গতিতে চলছিল যখন তা লাইনচ্যুত হয়।



