মিশরে শসা খামারে শিলালিপির পাথর পেয়ে মিলল ফেরাউন রামেসেসের দুটি বিশাল মূর্তি

মিশরে শসার দেখাশোনা করতে গিয়ে এক কৃষকের হাতে ওঠা একটি প্রাচীন শিলালিপির পাথর থেকে খুঁজে পাওয়া গেছে দুটি বিশাল রাজকীয় মূর্তির ধ্বংসাবশেষ। পুরাতত্ত্ববিদদের ধারণা, দুটি মূর্তিই ফেরাউন দ্বিতীয় রামেসেসের; একটি মূর্তি দ্বিতীয় রামেসেসের বলেই শনাক্ত করা হয়েছে।
মিশরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রণালয় এ মাসের শুরুতে এই আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেহবেইত এল-হাগার গ্রামে নিজের জমির শসা গ্রিনহাউসে কাজ করার সময় ওই কৃষক শিলালিপিযুক্ত পাথরটি পান বলে মিশরীয় সংবাদমাধ্যম ইয়োম৭ জানিয়েছে।
কৃষক স্থানীয় পুরাতত্ত্ব কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপরের খননকাজে দুটি মূর্তির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয় বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘একটি মূর্তি রাজা দ্বিতীয় রামেসেসের বলে শনাক্ত করা হয়েছে, অন্যটিও একই ফেরাউনের বলেই ধারণা করা হচ্ছে।’
আবিষ্কারের মধ্যে আরও রয়েছে একটি গোলাপি গ্রানাইট পাথরের খণ্ড, যাতে হায়ারোগ্লিফিক শিলালিপিতে রাজার কয়েকটি রাজকীয় উপাধি লেখা রয়েছে।
প্রথম মূর্তিটিতে দ্বিতীয় রামেসেসের একটি বিশাল মাথা রয়েছে, যার উচ্চতা ৫ ফুটের বেশি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মূর্তিতে ফেরাউনকে দ্বৈত মুকুট পরা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, যা উচ্চ ও নিম্ন মিশরের একীকরণের প্রতীক। মূর্তির পেছনের স্তম্ভের শিলালিপিতে তার একটি রাজকীয় নামও রয়েছে। পুরাতত্ত্ববিদদের হিসাব অনুযায়ী, ভিত্তিসহ মূল মূর্তিটির উচ্চতা প্রায় ২৮ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।
দ্বিতীয় মূর্তিটিও দ্বিতীয় রামেসেসের বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এটি প্রায় ৮ ফুট লম্বা, তবে এর পা ও ভিত্তি নেই। কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘মূর্তিটির মাথাও উদ্ধার করা হয়েছে, মুখের বৈশিষ্ট্য এখনো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ও সুসংরক্ষিত। এসব বৈশিষ্ট্য প্রথম মূর্তিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলে যায়।’
দ্বিতীয় রামেসেস জন্মেছিলেন খ্রিস্টপূর্ব ১৩০৩ সালে এবং মারা যান খ্রিস্টপূর্ব ১২১৩ সালে। তিনি প্রাচীন মিশরের নব রাজ্যের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী ফেরাউনদের একজন ছিলেন। কোনো কোনো গবেষক মনে করেন, বাইবেলের এক্সোডাস গ্রন্থে মুসার মুখোমুখি হওয়া ফেরাউন হতে পারেন দ্বিতীয় রামেসেস, যদিও পুরনো নিয়মে ওই শাসকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বাইবেলের বর্ণনায়, ফেরাউন ইসরায়েলিদের মুক্তি দেওয়ার মুসার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, যার পর একের পর এক বিধ্বংসী মহামারি আসে।
ঘটনাস্থলে খনন ও পুরাতাত্ত্বিক গবেষণা চলমান রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই অনুসন্ধান গবেষকদের দুটি মূর্তি, ওই এলাকার ইতিহাস এবং প্রাচীন মিশরীয় যুগে এর স্থাপত্য বিকাশ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’
প্রাচীন এই শাসক সম্পর্কে এটাই একমাত্র সাম্প্রতিক আবিষ্কার নয়। গত বছর ফক্স নিউজ ডিজিটাল মিশরবিদ জ্যাঁ-গিয়োম ওলেত-পেলেতিয়ের সঙ্গে কথা বলে, যিনি প্যারিসের প্লাস দ্য লা কনকর্ডে থাকা ৩ হাজার ৩০০ বছর পুরনো একটি স্তম্ভে দ্বিতীয় রামেসেসের প্রশংসাসূচক প্রাচীন প্রচারণা শনাক্ত করেছিলেন।



