সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে থামলেন সাদমান, আলোকস্বল্পতায় শেষ মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন

মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা না বাংলাদেশের, না ওয়েস্ট ইন্ডিজের—প্রথম দিনটা নিজের করে নিয়েছে আলো-আঁধারের খেলা। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আর্ণব’-এর প্রভাবে শেষ সেশনে খেলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত আলোই ছিল না। তাই দিনের নির্ধারিত ৯০ ওভারের মধ্যে ১৬ ওভারের খেলাই হয়নি।
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে দাঁড়িয়ে দিন শেষ করেছেন সাদমান ইসলাম। মিরপুরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষ হয়েছে আক্ষেপ নিয়ে। আলোকস্বল্পতায় দ্বিতীয়বারের মতো নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ করতে হয়েছে। তাতে ব্যক্তিগত ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন সাদমান। তার সঙ্গে ১০ রানে অপরাজিত আছেন লিটন দাস।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান। দিনের শেষ ভাগে আলো কমে আসায় সাদমানের সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের ফিরতে হয়েছে পরদিনের আশা নিয়ে।
দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। দলীয় ৭ রানে জেইডেন সিলসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হককে নিয়ে দলের হাল ধরেন সাদমান। দুজনের ব্যাটে আসে ৫৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তবে প্রথম সেশনের শেষ দিকে ২৮ রান করে বিদায় নেন মুমিনুল।
মুমিনুলের বিদায়ের পর অধিনায়ক শান্তকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন সাদমান। তৃতীয় উইকেটে তাদের জুটি থেকে আসে ৪২ রান। কিন্তু ১৯ রান করে শান্ত ফিরে গেলে আবারও উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সাদমান। দেড়শ রানের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান এই ওপেনার। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে তুলে নেন নিজের অর্ধশতক, এরপর এগিয়ে যান সেঞ্চুরির পথে।
তবে দিনের শেষ দিকে হৃদয়ের চোট বাংলাদেশের স্বস্তিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায়। ব্যাটিংয়ের সময় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে মাঠে ফিরে আসার পরও স্বস্তি মেলেনি তার।
জশুয়া বিশপের করা ৬৬তম ওভারের পঞ্চম বলে এক রান নেওয়ার পর আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি হৃদয়। বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ধরে বসে পড়েন তিনি। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে; রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় এই ব্যাটারকে।
হৃদয়ের চোটের পর ক্রিজে আসেন লিটন দাস। দিনের বাকি সময় সাদমানের সঙ্গে ব্যাটিং করে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। কিন্তু আলোকস্বল্পতার কারণে দ্বিতীয়বার খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাদমানের সেঞ্চুরি পূর্ণ করার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়। দ্বিতীয় দিনে মাঠে নামলেই এক রান নিলেই সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে এই ওপেনারের।




