২৫ বছর পর প্রথম ইংলিশ ব্যালন ডি-অর জয়ী কেইনকে বায়ার্নে গার্ড অব অনার, শনিবার ক্লাসিকারে ট্রফি প্রদর্শন

ইতিহাস গড়ে ব্যালন ডি-অর জয়ের পর হ্যারি কেইন ফিরলেন জার্মানিতে। মঙ্গলবার বায়ার্ন মিউনিখের অনুশীলনে ইংলিশ অধিনায়ককে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ছিল পুরো ক্লাব। সতীর্থ ও কর্মকর্তাদের উচ্ছ্বাস, কর্মীদের গার্ড অব অনার আর সমর্থকদের ‘হ্যারি, হ্যারি’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।
২৫ বছর পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি-অর জিতেছেন কেইন। তাঁর এই সাফল্যে বায়ার্নও পেয়েছে বিশেষ এক উপলক্ষ: ক্লাবটির ইতিহাসে ৪৫ বছর পর কোনো ফুটবলারের হাতে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি। জার্মানির কোনো ক্লাবে খেলা ফুটবলার হিসেবে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন কেউ।
পুরস্কার জয়ের অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে কেইন লিখেছেন, ‘কোথা থেকে শুরু করব? এমন একটি সন্ধ্যা, যা আমি কখনো ভুলব না।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘এই স্মৃতি দীর্ঘদিন আমার মনে থাকবে।’ বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের সতীর্থদের পাশাপাশি শুভকামনা জানানো সবাইকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন এই তারকা স্ট্রাইকার।
কেইনের অর্জনে উচ্ছ্বসিত বায়ার্নের ক্রীড়া পরিচালক ক্রিস্টোফ ফ্রয়েন্ড বলেন, ‘হ্যারি কেইনের পারফরম্যান্সে আমরা সবাই দারুণ খুশি। তাঁকে অসাধারণ ফুটবলার করে তুলেছে শুধু তাঁর গোল করার ক্ষমতা নয়, মাঠের বাইরেও তিনি বিশেষ একজন মানুষ।’ কেইনের ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘হ্যারি দারুণ একজন মানুষ। তাঁর মতো কাউকে খুব কমই পাওয়া যায়। বিশ্বমানের, অথচ এতটাই মাটির কাছাকাছি। সেন্টার-ফরোয়ার্ডের ভূমিকাকে হ্যারি সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা। নিঃসন্দেহে তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।’
বায়ার্নের পক্ষ থেকে কেইনের জন্য বিশেষ সংবর্ধনারও আয়োজন করা হচ্ছে। বুধবার জার্মান কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে দ্বিতীয় বিভাগের দল ম্যাগডেবুর্গের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা বায়ার্নের। দলের সহকারী কোচ অ্যারন ড্যাঙ্কস জানিয়েছেন, ওই ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত আছেন ইংলিশ অধিনায়ক।
গত মৌসুমের জার্মান কাপের ফাইনালে কেইনের হ্যাটট্রিক বায়ার্নকে শিরোপা জিততে সাহায্য করেছিল। এবারও শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকবে দলটি। শনিবার বুন্দেসলিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ‘ক্লাসিকার’ ম্যাচেও কেইনের অর্জন উদ্যাপন করবে বায়ার্ন; সেদিন সমর্থকদের সামনে ব্যালন ডি-অর ট্রফি প্রদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।
কেইনের আগে বায়ার্নের হয়ে ব্যালন ডি-অর জিতেছেন জার্মান ফুটবলের তিন কিংবদন্তি — ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, গার্ড মুলার ও কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে। ১৯৮১ সালে রুমেনিগের পর এবার কেইনের হাত ধরে আবারও এই সম্মান পেল বাভারিয়ান ক্লাবটি। ২০২০ সালে বায়ার্নে খেলা রবার্ট লেভানডফস্কি পুরস্কারটির সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিলেন, কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সেবার ব্যালন ডি-অর দেওয়া হয়নি।
কেইনের ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়ে যখন বায়ার্নে উৎসবের আবহ, তখন ক্লাবটি পার করছে কঠিন সময়ও। গত সপ্তাহে অনুশীলনের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান প্রধান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি; বর্তমানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে পরিবারের একজনের মৃত্যুর কারণে ছুটিতে আছেন মিডফিল্ডার জশুয়া কিমিখ। সহকারী কোচ ড্যাঙ্কস জীবনের এই দুই বিপরীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেছেন, গতকাল হ্যারি যে অসীম আনন্দ অনুভব করেছে আর গত কয়েক সপ্তাহে দল যে মুহূর্তগুলোর মধ্য দিয়ে গেছে, সবই তার অংশ।




