সীতাকুণ্ডে বদলির আগে এক দিনে ইয়াসিনের নামে ৬৫ জমির দলিল রেজিস্ট্রি, সাব-রেজিস্ট্রারের বদলি স্থগিত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব এক দিনে মো. ইয়াসিনের নামে বিভিন্ন পরিমাণের ৬৫টি জমির বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এসব দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। ইয়াসিন আলীনগরে ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান এবং জঙ্গল সলিমপুরে এক কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামি।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা হাবীবের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় হাবীবের বদলির আদেশ সাত দিনের জন্য স্থগিত করেছে।
গত সোমবার রায়হান হাবীবসহ দেশের ৮৫ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে একযোগে বদলি করা হয়। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের বৃহস্পতিবারের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছিল।
এদিকে সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে হাবীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ইয়াসিনের নামে থাকা ৬৫টি জমির বিক্রয় দলিলের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন। পরে এসব জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিক্রির দলিল ইস্যু করেন সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব।
এক দিনে এতগুলো দলিল রেজিস্ট্রির বিষয়ে রায়হান হাবীব বলেন, সীতাকুণ্ডের ভূমি অফিসের কাগজপত্র অনুযায়ী এসব জমি ইয়াসিনের নামে নামজারি করা আছে এবং ইয়াসিন খাজনাও দিয়েছেন। কাগজপত্র ঠিক থাকায় দলিলগুলো রেজিস্ট্রি করা হয়েছে এবং এর আগে বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। জঙ্গল সলিমপুরের জমি নিয়ে বিশেষ কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।
ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বিষয়টি তাঁরা বুধবার বিকেলে শুনেছেন এবং পরে মন্ত্রণালয়কে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ইউএনও হাবীবকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন; হাবীব জানিয়েছেন, ইয়াসিন নিজে তাঁর কাছে আসেননি, কাগজপত্র নিয়ে আসায় দলিলগুলো রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।
জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের পাশে, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত দিকের সড়ক ধরে পাহাড়ের ভেতরে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে এবং এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল; আলীনগর দীর্ঘদিন ধরে ইয়াসিন ও তাঁর বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, লিংক রোডের আশপাশে প্রতি শতক জমি ৯ থেকে ১০ লাখ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। সেই হিসাবে সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার ভূসম্পদ রয়েছে; সরকারি খাসজমির পাশাপাশি সেখানে কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও রয়েছে।
গত ৯ মার্চ প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেন। এর আগে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অভিযানের পর সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দেয় এবং জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে পৃথক দুটি চৌকি স্থাপন করা হয়।
এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এক আসামিকে গ্রেপ্তারে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে যাওয়া র্যাবের একটি দলের ওপর হামলা হয়। এ সময় র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ইয়াসিনসহ তাঁর বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা হয়েছে, তবে পুলিশ এখনও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।




